Advertisement
E-Paper

মেডিক্যাল কলেজেই উপড়ে গেল ভুল দাঁত

দুধের দাঁত তুলতে গিয়ে পাশের পাকা দাঁত তুলে দিয়েছেন চিকিৎসক। তা-ও আবার কোনও ভুঁইফোঁড় নার্সিংহোমে নয়, একেবারে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। যিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তিনি এক জন হাউস স্টাফ। প্রাথমিক তদন্তের পরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৪২

দুধের দাঁত তুলতে গিয়ে পাশের পাকা দাঁত তুলে দিয়েছেন চিকিৎসক।

তা-ও আবার কোনও ভুঁইফোঁড় নার্সিংহোমে নয়, একেবারে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। যিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তিনি এক জন হাউস স্টাফ। প্রাথমিক তদন্তের পরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

কান্দির মোতড়া গ্রামের বছর তেরোর শাহিদার দুধের দাঁতের পাশ দিয়ে গজিয়েছিল আরও একটি দাঁত। বয়স বাড়লেও দুধের দাঁত পড়েনি। মাতৃহীন শাহিদা প্রায়ই বাবা জয়নাল আবেদিনকে বলত, দাঁতটি তুলিয়ে দিতে। গৃহশিক্ষক জয়নাল টানাটানির সংসার সামলে বহু দিন ‘যাচ্ছি যাব’ করে বুধবার মেয়েকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের দন্ত বিভাগে নিয়ে যান। কয়েকটি পরীক্ষার পরে সেখানেই শাহিদার দাঁত তুলে দেওয়া হয়।

Advertisement

বাড়ি ফিরে আয়নার সামনে বসে শাহিদা মাড়িতে গোঁজা তুলে বের করে দিতেই ধরা পড়ে ভুল। দুধের দাঁতের বদলে পাশের পাকা দাঁত উঠে গিয়েছে। বেলা আড়াইটে নাগাদ বাবা-মেয়ে আবার হাসপাতালে ফিরে আসেন। দন্ত বিভাগের আউটডোর তখন গুটিয়ে গিয়েছে। ডেপুটি সুপার মণিময় বন্দোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন জয়নাল। তদন্তে নেমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারেন, বিক্রমজিৎ নামে ছ’মাসের চুক্তিতে আসা এক হাউস স্টাফ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অজয় রায় বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে বিক্রমজিৎ নামের ওই হাউস স্টাফের গাফিলতি প্রমাণিত হয়েছে,। তাই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন জনের তদন্ত কমিটিও গড়া হয়েছে।’’

কিন্তু উপড়ে নেওয়া দাঁত আর ফিরবে কী করে?

জয়নালের কথায়, ‘‘অনেকে বলেছিল, পাড়ার হাতুড়ে দিয়ে দাঁত তুলিয়ে নিতে, আমি রাজি হইনি। ভাল হাসপাতালে বড় চিকিৎসক দিয়ে দাঁত তোলাব ভেবেছিলাম। ওখানে এমন হবে ভাবিনি।’’ শাহিদার আফশোস, ‘‘বন্ধুরা বলত, বড় হলে খারাপ দেখাবে। তাই বাবাকে প্রায়ই বলতাম দাঁতটা তুলিয়ে দিতে। কিন্তু এ যে আরও বড় ক্ষতি হল!’’

জয়নালের প্রতিবেশী মহম্মদ হজরতুল্লাহ বলেন, ‘‘অভিযোগ করা হয়েছিল বুধবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে বৃহস্পতিবার আমাদের দেখা করতে বলেন।’’ হাসপাতাল সূত্রের খবর, অভিযুক্ত হাউস স্টাফ প্রথমে বিষয়টি মানতে চাননি। জিজ্ঞাসাবাদ এগোতেই গাফিলতির প্রাথমিক প্রমাণ মেলে। অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘এই হাসপাতালের পক্ষ থেকে মেয়েটির চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy