এর আগে সারদা এবং খাগড়াগড়-কাণ্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১০ প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেছিলেন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় সম্পাদক সিদ্ধার্থনাথ সিংহ। এ বার মালদহ-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রীকে ১০ প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তিনি।
গত ৩ জানুয়ারি মালদহের কালিয়াচকে উত্তেজিত জনতা থানা আক্রমণ করে গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে দেয়। অভিযোগ, ওই ঘটনায় প্রশাসনের উপর মহলের চাপে পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে বিজেপি বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এবং সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম পৃথক ভাবে কালিয়াচক যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পুলিশি বাধায় তাঁরা কেউই সেখানে পৌঁছতে পারেননি।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে রাজ্য বিজেপি-র সহ পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ শুক্রবার প্রশ্ন তুলেছেন, মালদহের গোয়েন্দাদের কাছে ঘটনার দু’দিন আগেই থানা আক্রমণের প্রস্তুতির খবর থাকা সত্ত্বেও মমতার প্রশাসন কেন সেটা ঠেকাতে পারল না? তাঁর আরও প্রশ্ন, যেখানে পুলিশই জানাচ্ছে, তারা ওই এলাকার কিছু জায়গায় ঢুকতে ভয় পায়, সেখানে আমজনতার নিরাপত্তার কী অবস্থা?
সিদ্ধার্থনাথের বক্তব্য, কেন্দ্রের মোদী সরকার আফিম চাষ এবং জাল নোট বন্ধে সক্রিয় হয়েছে। সে জন্যই এনআইএ-র ডিরেক্টর জেনারেল ২০১৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠক করে মালদহে অভিযানের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই খবর আগে থেকে না পেলে দুষ্কৃতীরা ওই দিন থানা আক্রমণ করতে পারত না। এই প্রেক্ষিতেই সিদ্ধার্থনাথ জানতে চেয়েছেন, মমতা প্রশাসনের কোন ‘মীরজাফর’ অভিযানের খবর আগেই মালদহের দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল? সিদ্ধার্থনাথের অভিযোগ, এ দিন কালিয়াচকে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩ জানুয়ারির ঘটনার জন্য তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপি-কে দুষেছিলেন। তা হলে এ দিনের ঘটনার পর তাঁরা কী বলবেন?
তৃণমূলের মুখ্য জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ ব্রায়েন অবশ্য বলেছেন, ‘‘সিদ্ধার্থনাথ সিংহের ওই সব অভিযোগ নিয়ে আমরা মাথাই ঘামাচ্ছি না। ওঁর ভিত্তিহীন ওই সব কথাবার্তার জবাব আমাদের ব্লক স্তরের নেতারা দিলেও দিতে পারেন।’’