Advertisement
E-Paper

রাজবংশীদের জন্য পর্ষদের দাবি অধীরের

যে সময়ে দার্জিলিং পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে ব্যস্ত, তখন অনেকটা তৃণমূলের কায়দাতেই জনসভার মঞ্চের সামনেই নেপালি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের দিয়ে নাচগানের অনুষ্ঠান করল কংগ্রেস।

সংগ্রাম সিংহ রায়

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৪৬
বাগডোগরার সভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শুক্রবার সন্দীপ পালের তোলা ছবি।

বাগডোগরার সভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শুক্রবার সন্দীপ পালের তোলা ছবি।

যে সময়ে দার্জিলিং পাহাড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে ব্যস্ত, তখন অনেকটা তৃণমূলের কায়দাতেই জনসভার মঞ্চের সামনেই নেপালি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের দিয়ে নাচগানের অনুষ্ঠান করল কংগ্রেস। শুক্রবার শিলিগুড়ির বাগডোগরার চিত্তরঞ্জন হাইস্কুল ময়দানে কংগ্রেসের একটি জনসভায় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর উপস্থিতিতে ওই শিল্পীদের ফের অন্য ব্লকগুলিতেও সভার জন্য আগাম বায়না করে দেওয়া হল দলের পক্ষ থেকে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের শক্তিশালী ও জেতা আসনগুলি ধরে রাখতে ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। এ দিন জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন সংখ্যালঘু জাতি ও সম্প্রদায়কে যে তাঁরা কাছে টানার চেষ্টা করবেন, তা এদিনের বক্তব্যে পরিস্কার করে দেন অধীরবাবু থেকে কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভাপতি তথা স্থানীয় বিধায়ক শঙ্কর মালাকারও। যদিও তাঁদের কোনও প্রচেষ্টাতেই মানুষ সাড়া দেবেন না বলে পাল্টা দাবি করেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এ দিন তাঁর বক্তব্যে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বারবারই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বন্ধ ও অচল চা বাগান শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। এমনকী রাজবংশী ও নমঃশূদ্রদের জন্যও নতুন পর্ষদ গঠন করা উচিত বলে দাবি করেন তিনি। খুব শীঘ্রই এই দাবিতে তাঁরা আন্দোলনেও নামবেন বলে অধীরবাবু এ দিন জানান। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘কোল সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি তকমার জন্য কেন্দ্রে দরবার করা হচ্ছে। আরও কেউ যদি মনে করেন, তাঁদের প্রতি অবিচার হচ্ছে আপনারা আওয়াজ তুলুন। আমি আপনাদের হয়ে লড়ব।’’

যদিও রাজ্য রাজনীতিতে অধীরবাবুর লোক দেখানো জনপ্রীতি আম জনতা আর নিচ্ছে না বলে দাবি করেন পার্থবাবু। তিনি বলেন, ‘‘জামা খুলে, মেকি দরদ দেখিয়ে লোক টানা যায় না। এমন লোকেদের সম্বন্ধে যত কম বলা যায় তত ভাল।’’ এদিন বাগডোগরার জনসভায় লোক সমাগম দেখে উচ্ছ্বসিত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ফের মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে নিশ্চিত জিতবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

Advertisement

এ দিন সভায় জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তথা মাটিগাড়া নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক শঙ্কর মালাকার, ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক সুনীল তিরকে সহ স্থানীয় ব্লক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রতিটি সফরে যাঁদের নিয়ে ঘুরে বেড়ান, তাঁদেরই অনেকে বন্ধ ও অচল চা বাগানগুলির মালিক বলেও কটাক্ষ করেন এই সাংসদ নেতা। তাঁদের আড়াল করতেই মুখ্যমন্ত্রী এত বার উত্তরবঙ্গে এলেও চা বাগানে যাননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই সব বাগান মালিকদের আড়াল করতেই সেখানে কেউ মারা যাননি। বাগানে শ্রমিক মারা গেলে তার দায় মালিকদের উপরে বর্তায় জেনেই মুখ্যমন্ত্রী সচেতন ভাবে বাগানে যাওয়া এড়িয়ে গিয়েছেন বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দাবি। এমনকী তিনি জানান, বাগানগুলিতে যে ২ টাকা কিলো দরে চাল বিক্রি হয়েছে তা-ও কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প। যদিও তাঁর এই সব মন্তব্যের কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই বলে তৃণমূল মহাসচিবের দাবি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy