আগেই জেলা পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন পরিবারের লোকজন। ডায়মন্ড হারবারের কিশোরীর নিখোঁজ রহস্যের তদন্তে এ বার একই কথা বলছে সিআইডিও। প্রাথমিক তদন্তের পর তাদের বক্তব্য, নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জেলা পুলিশ তৎপর হলে আয়েশা (নাম পরিবর্তিত) নামে ওই কিশোরীকে এত নির্যাতন সইতে হতো না।
কোন গাফিলতির কথা বলছে সিআইডি? তাদের বক্তব্য, মেয়েটির বাড়ির লোকই আয়েশা ও পাচারকারীদের মোবাইল ফোন নম্বর তুলে দিয়েছিল পুলিশের হাতে। কিন্তু তার পরেও তারা হাত গুটিয়ে বসেছিল। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দেখে ধরার চেষ্টা পর্যন্ত করেনি অপরাধীদের।
ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রের খবর, ২০১৪-র ৮ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় আয়েশা। ২০১৫-র ৭ ডিসেম্বর গাজিয়াবাদের তেগবাহাদুর হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় খোঁজ মেলে কিশোরীর। উত্তরপ্রদেশের পুলিশকে সে জানায়, তাকে পাচার করে এনে যৌন ব্যবসায় লাগানো হয়েছিল। লাগাতার ধর্ষণও করা হয়েছে তাকে। এই প্রসঙ্গেই আসলাম ও বাবুর নাম জানায় সে। আসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে এবং জানতে পারে সে এইচআইভি আক্রান্ত। পরে কিশোরীর রক্ত পরীক্ষা করে জানা যায়, ওই জীবাণু ছড়িয়ে গিয়েছে তার রক্তেও।
এর পর উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গড়েছিল। ২১ ডিসেম্বর এ রাজ্যেও তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়। তার পরে বাবু এখনও অধরা। ওই কিশোরীকে উদ্ধারের পর আসলামকে গ্রেফতার করেছিল গাজিয়াবাদের পুলিশ। কিন্তু তাঁর মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। এখন আসলামকে কলকাতায় আনার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই দিল্লি গিয়েছে গোয়েন্দাদের একটি দল। সিআইডি-র একটি সূত্র বলছে, তদন্তভার পাওয়ার পরই ফোনে ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। ভবানীভবন সূত্রের খবর, এ বার কিশোরীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে দিল্লি যাচ্ছে সিআইডি। কিশোরীর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, বাবুই কিশোরীকে নিয়ে পালিয়েছিল। সে কথা বাড়ির লোকজনকে ফোন করে জানিয়েছিল মেয়েটিই। আরও জানায়, দিল্লিতে আসলাম নামে এক যুবকের কাছে তাকে বিক্রি করে দিয়েছে বাবু।
ওই কিশোরীর পাশাপাশি বাবুর ফোন নম্বর জোগাড় করেও মগরাহাট থানার পুলিশকে দিয়েছিলেন আয়েশার পরিবারের লোকজন। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার ডায়মন্ড হারবার থানার হাতে গেলেও কাজ কিছু হয়নি। ‘‘মগরাহাট থানা নিখোঁজ ডায়েরি করেই দায় সেরেছিল। ডায়মন্ড হারবার থানাও চুপ করে বসেছিল।’’ বলছেন এক সিআইডি-কর্তা। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, ফোনের সূত্র ধরে বড় ব়ড় মামলার সমাধান করা হয়। সেই সূত্রটুকু জেলা পুলিশ কাজে লাগায়নি। অথচ কিশোরী ও বাবুর ফোন নম্বর এবং টাওয়ার লোকেশন ধরে খোঁজ করলে আগেই রহস্যের সমাধান করা যেত।
সিআইডি সূত্রের দাবি, এখন সেই সব কল ডিটেলস পাওয়া যাবে না। কারণ, কোনও বিশেষ কারণ না থাকলে এক বছর পরে ফোন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা রেকর্ড নষ্ট করে ফেলে। ফলে বাবুর সঙ্গে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় আর কে কে এই চক্রে জড়িত বা ঘটনার পরে বাবুর সঙ্গে আর কাদের যোগাযোগ হয়েছিল, তা খুঁজে পাওয়া এখন অসম্ভব।
জেলা পুলিশের এই গাফিলতির কথা রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের কানেও পৌঁছেছে। এক কর্তা বলেন, ‘‘সিআইডির রিপোর্ট পেলে জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট অফিসারদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।’’