Advertisement
E-Paper

সারদার সঙ্গেই সুমঙ্গলে তদন্তের পক্ষে হাইকোর্ট

আলুর বন্ড কিনে একশো দিনে টাকা দ্বিগুণ করার বিজ্ঞাপন দিয়েছিল সুমঙ্গল অ্যাগ্রো নামে একটি সংস্থা। অভিযোগ, সংস্থাটি এ ভাবে বাজার থেকে কয়েকশো কোটি টাকা তুলে তা আর আমানতকারীদের ফেরত দেয়নি। কলকাতা হাইকোর্ট চায়, সারদার সঙ্গেই সুমঙ্গলের কাজকারবার নিয়েও তদন্ত হোক। ওই সংস্থার হিসেবপত্র পরীক্ষা করে তাদের বিষয়টিও সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য বৃহস্পতিবার সিবিআই-কে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০১৪ ০৩:২১

আলুর বন্ড কিনে একশো দিনে টাকা দ্বিগুণ করার বিজ্ঞাপন দিয়েছিল সুমঙ্গল অ্যাগ্রো নামে একটি সংস্থা। অভিযোগ, সংস্থাটি এ ভাবে বাজার থেকে কয়েকশো কোটি টাকা তুলে তা আর আমানতকারীদের ফেরত দেয়নি। কলকাতা হাইকোর্ট চায়, সারদার সঙ্গেই সুমঙ্গলের কাজকারবার নিয়েও তদন্ত হোক। ওই সংস্থার হিসেবপত্র পরীক্ষা করে তাদের বিষয়টিও সারদা গোষ্ঠীর আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য বৃহস্পতিবার সিবিআই-কে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

টাকার অঙ্কে সারদার তছরুপ অনেক বড় ঠিকই। কিন্তু সারদা ছাড়াও সুমঙ্গলের মতো অন্য অনেক বেসরকারি লগ্নি সংস্থায় টাকা রেখে ফেরত পাননি অসংখ্য আমানতকারী। এই ধরনের অনেক সংস্থা ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে। বিপন্ন হয়ে পড়েছেন এজেন্ট এবং আমানতকারীরা। সারদায় টাকা রেখে যাঁরা সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের কিছু কিছু টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বিচারপতি শ্যামল সেনকে মাথায় রেখে কমিশন গড়েছে রাজ্য সরকার। অন্যান্য লগ্নি সংস্থার লগ্নিকারী ও এজেন্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, কমিশন তাঁদের টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করবে না কেন? এই নিয়ে কমিশনের দফতরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমানতকারীরা। মামলাও হয়েছে। সারদা ছাড়াও অন্যান্য লগ্নি সংস্থায় টাকা রেখে প্রতারিতদের ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সারদা-সহ দেশের অন্তত ৪৫টি বেসরকারি অর্থ লগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। ওই সব সংস্থার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যেই সুমঙ্গল অ্যাগ্রোর কিছু আমানতকারী হাইকোর্টে মামলা করেন। তাঁদের আবেদন শুনে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এ দিন নির্দেশ দেন, সুমঙ্গল এখন তাদের কোনও সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। সারদার তদন্তের সঙ্গেই সুমঙ্গল কাণ্ড নিয়ে তদন্ত করা যায় কি না, ইতিমধ্যে সিবিআই তা যাচাই করবে।

শুধু সুমঙ্গল নয়, ইনফোটেক টাওয়ার নামে অন্য একটি লগ্নি সংস্থার মামলাও এ দিন উঠেছিল বিচারপতি দত্তের এজলাসে। ওই মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থা সেবি-র কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও ইনফোটেক টাওয়ার সংস্থার সম্পত্তির মূল্য কত, সেবি তা জানাচ্ছে না। বিচারপতির নির্দেশ, সোমবারের মধ্যে সেবি-কে এই হিসেব জমা দিতে হবে।

ইনফোটেকের মোট কত সম্পত্তি আছে, গত এপ্রিলে তা জানানোর জন্য সেবি-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। কিন্তু প্রায় দু’মাস পরেও সেবি সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। এ দিনও শুনানির সময় ওই সংস্থার সম্পত্তির মূল্য জানাতে পারেনি তারা। সেবি জানিয়েছে, এখনও কিছু অসুবিধা থেকে যাওয়ায় তারা ওই সংস্থার সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করে উঠতে পারেনি।

সেবি-র কাজকর্ম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও কিছু অসঙ্গতি পেয়েছিল। বিভিন্ন বেসরকারি লগ্নি সংস্থার ক্ষেত্রে সেবি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে নানা মহলে। ইনফোটেকের আমানতকারীরা টাকা ফেরত চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই মামলার সূত্রেই বিচারপতি সেবি-কে ওই সংস্থার সম্পত্তির খোঁজ করে তার বাজারদর যাচাই করতে বলেছেন। যাতে সেই সম্পত্তি বেচে লগ্নিকারীদের টাকা ফেরানো যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেবি-র ভূমিকায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি হাইকোর্ট।

saradha case sumangal agro investigation high court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy