×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মে ২০২১ ই-পেপার

উগ্রপন্থা রফতানি পাকিস্তানের জাতীয় নীতি, কলকাতায় বললেন আফগান প্রতিনিধি

নিজস্ব সংবাদদাতা
০৭ জানুয়ারি ২০১৭ ১৮:২৩

পাকিস্তানকে কোণঠাসা না করতে পারলে উপমহাদেশে উন্নয়ন এবং শান্তি বজায় রাখা অসম্ভব। কলকাতায় এসে এ কথা জানিয়ে গেলেন আফগানিস্তানের অর্থমন্ত্রীর উপদেষ্টা নাজির কবিরি। সেই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‘উগ্রপন্থাকে লালন-পালন করা এবং রফতানি করা পাকিস্তানের জাতীয় নীতির মধ্যেই পড়ে। পৃথিবীতে সব দেশের একটা সেনাবাহিনী থাকে, কিন্তু পাকিস্তান এমন একটা রাষ্ট্র, যেখানে সেনার হাতে একটি দেশ রয়েছে। গোলমাল সেখানেই।’’

ভারত সরকারের অধীনস্থ মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান স্টাডিজ (মাকায়াস) এবং ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ (আইএসসিএস)-এর আমন্ত্রণে কলকাতায় এসেছিলেন কবিরি। ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘গত ৭০ বছর ধরে এই দুই দেশ একে অপরের পাশে সমস্ত সঙ্কটে দাঁড়িয়েছে। এক সময় কাবুলিওয়ালারা ছিলেন সে দেশ থেকে আসা বাণিজ্যদূত। সেই সম্পর্ক আজও অটুট। কাবুলিওয়ালারা আজও আসবেন, তবে ইরানের চাবাহার বন্দর কিংবা নয়াদিল্লি-কাবুল এয়ার করিডর হবে এই বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন পথ।’’

বিদেশ মন্ত্রকের আর্থিক উপদেষ্টা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ইন ডেভেলপিং কান্ট্রিজ (আরআইএস)-এর ডিরেক্টর জেনারেল শচীন চতুর্বেদীও ইরানে চাবাহার বন্দর নির্মাণের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সওয়াল করেন। তাঁর কথায়, ‘‘শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া যাতে ওই রুটে দ্রুত জাহাজ চালানো শুরু করে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’ এ ছাড়া পাকিস্তানের মাটি এড়িয়ে সরাসরি কাবুলে পণ্যসামগ্রী পাঠাতে নয়াদিল্লি-কাবুল এয়ার কার্গো পরিষেবা চলছে বলেও জানান তিনি।

Advertisement

এশিয়ার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত আফগানিস্তানের চারদিকে রয়েছে বিভিন্ন দেশ। সরাসরি কোনও সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে এর সীমান্ত নেই। নিকটতম বন্দর পাকিস্তানের করাচি। ফলে সমস্ত পণ্যই সম্পূর্ণ ভাবে পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যেতে হয়। যা সে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করা হয়। সেই কারণেই ইরানের চাবাহারে বন্দর নির্মাণ করে পাকিস্তানকে এড়িয়ে নতুন পণ্য পরিবহণের রাস্তা তৈরি করছে ভারত।

আরও পড়ুন, কাবার্ডের তলা থেকে দু’বছরের যমজ ভাইকে বাঁচালো দাদা! দেখুন ভিডিও...

দিল্লির নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের অধিকর্তা তথা রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধি হিসাবে আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে দীর্ঘ দিন কাবুলে কাটিয়ে আসা আমলা শক্তি সিংহ বলেন, ‘‘আমরা যে যা-ই বলি, পাকিস্তানের ভূমিকা বাদ দিয়ে আফগানিস্তানে কিছু করা সম্ভব নয়। সালমা বাঁধ হোক বা সে দেশের সংসদ ভবন ভারত তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু এত সময় লেগেছে শুধুমাত্র পাকিস্তানের কলকাঠির কারণেই।’’ অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা মাকায়াস-এর অধিকর্তা শ্রীরাধা দত্ত এবং আইএসসিএস-এর অরিন্দম মুখোপাধ্যায় জানান, ভারত-আফগান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা কিছু এত কাল হয়েছে তা দিল্লিতে বসে। এই প্রথম মিনির দেশে কাবুলিওয়ালাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে কলকাতার পাখতুনদের একটি বড় অংশ উপস্থিত ছিলেন। আফগান সরকারের প্রতিনিধিকে সামনে পেয়ে তাঁরা নানা সমস্যার কথা জানান।

Advertisement