বাংলাদেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সম্পর্কের বিজ্ঞাপন উচ্চগ্রামে না নিয়ে, সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপের নীতি নিয়ে চলছিল নয়াদিল্লি। বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতার জোয়ারের মধ্যে নরেন্দ্র মোদী সরকার এমন কিছু করতে চায়নি, যাতে দেশের মধ্যে চাপে পড়েন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন সবুরে মেওয়া ফলছে। শান্ত কূটনীতির ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে। আগামী সপ্তাহে নতুন সরকারের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে নয়াদিল্লি সফরে আসছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার আগেই গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি এবং তিস্তা মহাপ্রকল্প নিয়ে দু’দেশের সদস্য নিয়ে তৈরি হওয়া টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি। আজ সে দেশের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। শহীদউদ্দিন বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি এবং তিস্তা মহাপ্রল্প নিয়ে আমাদের আলোচনার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। টেকনিক্যাল পর্যায়ে, কারিগরি বিশেষজ্ঞ যাঁরা আছেন তাঁরা কাজ করছেন। এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো জায়গায় পৌঁছনো যায়নি। তবে এই কাজ অব্যাহত রেখেছি, আমাদের নিয়মিত বৈঠক চলছে, নিয়মমাফিক এবং ধারাবাহিক ভাবে।’ পাশাপাশি, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়াল আজ বলেন, “ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে জলসম্পদ বিষয়ক কাঠামোগত মেকানিজ়ম ইতিমধ্যেই রয়েছে, এবং সেটি কাজ করছে।”
কিন্তু ঘটনা হল এই স্থায়ী ‘কাঠামোগত মেকানিজ়ম’ চূড়ান্ত অনিশ্চিত এবং অস্থায়ী হয়ে গিয়েছিল ইউনূস জমানায়। নতুন সরকার সে দেশে ক্ষমতায় আসার পরই গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করা মোদী সরকারের প্রাথমিক কর্মসূচির মধ্যে ছিল। তিন দশক আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি হয়। আগামী নভেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক এক মাস আগেই জানিয়েছিল, গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে এখনও দু’দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়নি। মোদী সরকার ২০২৪-এ তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেই বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে এসেছিলেন। সে সময়ই মোদী ঘোষণা করেন, দু’দেশের মধ্যে ২০২৬-এ গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণের জন্য একটি কারিগরি আলোচনা শুরু করা হবে।
পাশাপাশি তিস্তার বাংলাদেশের অংশে জলাধার নির্মাণ করে সেচ ও পানীয় জলের সমস্যা নিরসন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দু’মাস আগে। তিনি জানান, চিনও এই প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তাঁর পছন্দ ভারতই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)