Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

একে একে ‘খুন’ সব মার্কিন চর, চিনে বিধ্বস্ত সিআইএ-র নেটওয়ার্ক!

এক ডজনেরও বেশি মার্কিন গুপ্তচরকে খুন করে দিয়েছে চিন। প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে চিনের অন্দরে বড়ে ওঠা মার্কিন গুপ্তচর নেটওয়ার্ককে। খবর মার্কিন গ

সংবাদ সংস্থা
২১ মে ২০১৭ ২০:৪৬
—প্রতীকী ছবি / ফাইল চিত্র।

—প্রতীকী ছবি / ফাইল চিত্র।

এক ডজনেরও বেশি মার্কিন গুপ্তচরকে খুন করে দিয়েছে চিন। প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে চিনের অন্দরে বড়ে ওঠা মার্কিন গুপ্তচর নেটওয়ার্ককে। খবর মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ সূত্রেই। গুপ্তচর সংস্থাটির বেশ কয়েক জন অবসরপ্রাপ্ত কর্তা এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন। কয়েক জন বর্তমান সিআইএ কর্মীও জানিয়েছেন, চিনে মার্কিন গুপ্তচর ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যাঁদের মাধ্যমে এই খবর প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁরা কেউই নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নন। তবে সকলেই এক মত, গত বেশ কয়েক দশকে এত বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি মার্কিন গুপ্তচর সংস্থাটি। সিআইএ বা মার্কিন সরকার অবশ্য বিষয়টি নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি।

এক কালে সোভিয়েত রাশিয়ার সমস্ত পদক্ষেপের উপর নজরদারি চালানো ছিল আমেরিকার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মস্কোই ছিল সে সময়ে ওয়াশিংটন ডিসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ সে সময়ে এজেন্ট তৈরি করেছিল সোভিয়েতের নানা প্রান্তে। রুশ সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেই অনেকে মার্কিন এজেন্ট হয়ে উঠেছিলেন মস্কোর অজান্তে। একই ভাবে আমেরিকার উপরেও নজরদারি চালাত রুশ গুপ্তচর সংস্থা কেজিবি। আমেরিকা এবং রাশিয়ার গুপ্তচর সংস্থা পরস্পরের উপর গোপন নজরদারি এখনও চালায়। কিন্তু ওয়াশিংটনের কাছে এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ চিনের উপর নজরদারি।

সিআইএ সূত্রের খবর, কমিউনিস্ট সরকারের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কঠোর বিধিনিষেধের কারণে চিনে গুপ্তচর তৈরি করা বেশ কঠিন। কিন্তু দীর্ঘ সময় এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করে চিনে সেই নেটওয়ার্ক নাকি সিআইএ তৈরি করে ফেলেছিল। চিনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিভাগের কিছু কর্তা বা কর্মীই মার্কিন চর হয়ে উঠেছিলেন, দাবি সিআইএ-র কয়েকজন প্রাক্তন কর্তার। কিন্তু ২০১০-এর শেষ কয়েকটি সপ্তাহ থেকে শুরু করে ২০১২-র মধ্যে একে একে সেই সব মার্কিন চরকে চিহ্নিত করেছে বেজিং এবং খুন করে দিয়েছে— দাবি সিআইএ-র কয়েক জন প্রাক্তন কর্তার। অন্তত ১২ জন মার্কিন চর নাকি চিনে নিঃশব্দে খুন হয়ে গিয়েছেন। জেলে বন্দি আরও ৬ থেকে ৮ জন— মনে করছে সিআইএ।

Advertisement



চিনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নানা বিধিনিষেধ এড়িয়ে বহু কষ্টে যে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক আমেরিকা সে দেশে তৈরি করেছিল, তা এখন বিধ্বস্ত বলে শোনা যাচ্ছে। —প্রতীকী ছবি / ফাইল চিত্র।

চিনে যে মার্কিন গুপ্তচররা খুন হয়ে যাচ্ছেন, তা কী ভাবে জানতে পেরেছে সিআইএ? ওয়াশিংটন সূত্রের খবর, ২০১০ সালের শেষ দিক থেকে ক্রমশ কমতে শুরু করেছিল চিন থেকে আসা গোপন তথ্যের পরিমাণ। যে সব সূত্র মারফৎ খবর যেত আমেরিকায়, সেই সব সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ একে একে বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল। সিআইএ-র চররা একে একে গায়েব হয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁদের আর কোনও খোঁজ মিলছিল না। পরে সিআইএ কর্তারা নাকি জানতে পারেন, মার্কিন গুপ্তচরদের খুঁজে খুঁজে নিকেশ করতে শুরু করেছে চিন। এক গুপ্তচরকে নাকি সরকারি অফিস চত্বরে তাঁর সহকর্মীদের সামনেই গুলি করা হয়েছিল। চিনে থেকে অন্য দেশের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগ উঠলে কী হাল হবে, সে কথা সকলকে বুঝিয়ে দিতেই প্রকাশ্যে ওই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল বলে সিআইএ-র সঙ্গে যুক্ত অন্তত তিন জনের দাবি।

আরও পড়ুন: মার্কিন বায়ুসেনার বিমান অনুসরণ চিনের, দাবি আমেরিকার

কিন্তু মার্কিন গুপ্তচরদের চিন চিহ্নিত করল কী ভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে ওয়াশিংটন তদন্ত শুরু করেছিল বলেও খবর। কিন্তু তদন্তকারীরা দ্বিধাবিভক্ত। একটি অংশ বলছে, সিআইএ-র মধ্যে থাকা কোনও চিনা গুপ্তচর সব ফাঁস করে দিয়েছেন। অন্য একটি অংশের মত, সিআইএ যে গোপন প্রক্রিয়ায় নিজের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, সেই প্রক্রিয়া চিন কোনও ভাবে জানতে পেরেছে। সেখান থেকেই একে একে মার্কিন গুপ্তচরদের বেজিং চিহ্নিত করেছে।

মার্কিন গুপ্তচরদের কী ভাবে বেজিং চিহ্নিত করল, সে সম্পর্কে আমেরিকা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, চিনে যে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা, খুব তাড়াতাড়ি তার পূরণ অসম্ভব।

আরও পড়ুন

Advertisement