বহু চর্চিত আমেরিকা-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তিতে মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের কোনও যোগ ছিল না— এমনটাই দাবি করেছেন পূর্বতন অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বাংলাদেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, ইউনূস সরকারে সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ছিল। তারাই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিত। বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও তাঁকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ওই চুক্তির নেপথ্যে ছিলেন বলে দাবি তৌহিদের।
আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। মূলত বামপন্থী দলগুলির অভিযোগ, দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপস করেই এই চুক্তি করা হয়েছে। বিগত সাধারণ নির্বাচনের তিন দিন আগে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে বিদেশ মন্ত্রকের কোনও ভূমিকাই ছিল না বলে দাবি করেছেন ইউনূসের বিদেশউপদেষ্টা তৌহিদ।
তৌহিদের কথায়, ‘‘এই চু্ক্তির সঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক সামান্যতম ভাবেও যুক্ত ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রক এবং তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কোনও কারণ হয়তো ছিল, আমরা এটা (চুক্তি) করতে বাধ্য হয়েছি। কোনও বাধ্যবাধকতা না থাকলে এটা নির্বাচিত সরকারের উপরে ছেড়ে দেওয়াই উচিত ছিল।’’
কেন বিদেশ মন্ত্রককে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল? তৌহিদের অভিযোগ, কয়েক জন উপদেষ্টাকে নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ তৈরি করেছিলেন। তারাই সব সিদ্ধান্ত নিত। তৌহিদের কথায়, ‘‘কোনও উপলক্ষে কিচেন ক্যাবিনেটের মিটিংয়ে আমাকে যেতে হয়েছিল। পরে জেনেছি, যমুনা-এ প্রতি মঙ্গলবার তাঁরা বসেন। কিন্তু এটা আমি আগে জানতাম না।’’ অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ হিসেবে নিজের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেও জানিয়েছেন তৌহিদ। তিনি বলেন, ‘‘আমি তিন বার দায়িত্ব ছাড়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু ছাড়তেদেওয়া হয়নি। কারণ সরকার বিড়ম্বনায় পড়ত।’’
তৌহিদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বাংলাদেশের বামপন্থী দলগুলি। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসনে প্রিন্স বলেন, ‘‘এই চুক্তির দায় অন্তর্বর্তী সরকারের। কে বেশি দায়ী, কে কম দায়ী, বিষয় সেটা নয়। দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে এই চুক্তি হয়েছে। আমাদের দাবি, নির্বাচিত সরকার পার্লামেন্টে আলোচনা করে এই চুক্তি বাতিল করুক।’’
বিদেশ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে নয়াদিল্লিকে চিঠি লিখেছিলেন তৌহিদ। তিনি জানিয়েছেন, ওই চিঠি কোনও কাজে আসবে না। এই কূটনীতিকেরবক্তব্য, ‘‘আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে বাতিল হয়েগিয়েছে বা যাচ্ছে, এমন মনেকরা ঠিক না। মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না। আমি বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)