Advertisement
E-Paper

তিন মহাসাগরের মানচিত্র বানাচ্ছে চিন, গোপনে ডুবোজাহাজ হানার ছক! কোন কোন দেশ এ বার বেজিঙের নিশানায়?

রয়টার্স জানাচ্ছে, চিনের জাহাজ ‘ডং ফাং হং–৩’ ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে তাইওয়ানের আশপাশের সমুদ্র, প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি গুয়ামের কাছাকাছি জলসীমা এবং ভারত মহাসাগরে একাধিক বার যাতায়াত করেছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ২৩:১৩
চিনা ডুবোজাহাজ।

চিনা ডুবোজাহাজ। —ফাইল চিত্র।

ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর এবং আর্কটিক (উত্তরমেরু) মহাসাগর জুড়ে সমুদ্রতলের বিস্তৃত মানচিত্র তৈরি করছে চিন। গুপ্তচর জাহাজ এবং ডুবোজাহাজের সাহায্যে এই কর্মসূচিতে নজরদারি চালানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট তিন মহাসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলির উপরেও। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বেজিঙের এই গোপন সামরিক তৎপরতা সংক্রান্ত তথ্য।

রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সমুদ্রের পরিবেশগত ও ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অত্যন্ত সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নৌযুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে ডুবোজাহাজ যুদ্ধ পরিচালনা এবং প্রতিপক্ষের ডুবোজাহাজ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিউজিল্যান্ডের স্টারবোর্ড মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্সের তৈরি একটি জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তিন মহাসাগরে সক্রিয় ৪২টি চিনা জাহাজের গত পাঁচ বছরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে রয়টার্স। তাতে দেখা যাচ্ছে, চিন বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধারাবাহিক ভাবে মানচিত্র তৈরির কাজ করছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধান জানাচ্ছে, চিনের গবেষণা জাহাজ ‘ডং ফাং হং–৩’ ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে তাইওয়ানের আশপাশের সমুদ্র, প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি গুয়ামের কাছাকাছি জলসীমা এবং ভারত মহাসাগরের কৌশলগত এলাকায় একাধিক বার যাতায়াত করেছে। জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রসঙ্গত, ২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে চিনের ‘ইউয়ান ওয়াং-৫’ এবং ‘ডং ফাং হং–৩’-কে ভারত মহাসাগরে দেখা গিয়েছে। শ্রীলঙ্কার হাম্বনটোটা বন্দরে গিয়ে রসদ এবং জ্বালানিও সংগ্রহ করেছে ওই দুই গুপ্তচর জাহাজ। যা নিয়ে এক সময় কলম্বোর কাছে আপত্তি জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।

প্রকাশিত প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে জাপানের নিকটবর্তী সমুদ্রতলে স্থাপন করা শক্তিশালী চিনা সেন্সরগুলিতে নতুন কিছু যন্ত্র বসিয়েছিল ‘ডং ফাং হং–৩’। সেন্সরগুলি জলের নীচের বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। গত বছরের মে মাসেও একই এলাকায় আবার অভিযান চালিয়েছিল ‘ডং ফাং হং–৩’। সে সময় তাইওয়ানকে ঘিরে আমেরিকা এবং জাপানের সঙ্গে টানাপড়েন চলছিল শি জিনপিং সরকারের। ‘ওশান ইউনিভার্সিটি অব চায়না’র দাবি, জাহাজটি মূলত সমুদ্রের তলদেশের বিভিন্ন উপাদানের সমীক্ষা ও জলবায়ু গবেষণার কাজ করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি নিবন্ধের উল্লেখ করা রয়টার্স জানাচ্ছে, ‘ডং ফাং হং–৩’-সহ চিনা জাহাজগুলি গভীর সমুদ্রের মানচিত্র তৈরির যে কাজ করছে, তার মূল্য উদ্দেশ্য শত্রু ডুবোজাহাজের সম্ভাব্য আস্তানা চিহ্নিতকরণ এবং সমুদ্রতলের গর্ভে থাকা খনিজের অনুসন্ধান।

US-China Spy Chinese Ship China PLA navy Pacific Ocean Indian Ocean Arctic Sea Defence
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy