Advertisement
E-Paper

৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের জন্যই কি ইরানে সেনা নামাতে চান ট্রাম্প! ঝুঁকি বিচার করে মতানৈক্য প্রশাসনেও

ট্রাম্প নিজের ঘনিষ্ঠমহলে দাবি করেছেন, ইউরেনিয়াম রাখতে পারে না ইরান। আলোচনার টেবিলে তারা তা দিতে না চাইলে ‘জোর করে বাজেয়াপ্ত’ করার দাবিও তুলেছেন ট্রাম্প।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৯
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

ইরানের ভান্ডারে থাকা ইউরেনিয়ামের জন্যই কি সে দেশে মার্কিন সেনা নামাতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? সূত্রকে উদ্ধৃত করে তেমনই জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সেই সূত্রের দাবি, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি (৯৭০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্যই সেগুলি সঞ্চয় করে রেখেছে তেহরান। সূত্রের খবর, তেহরান যাতে সেই ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দেয়, সে জন্য তাদের চাপ দিতে নিজের উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথাও বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে সূত্রের খবর, এই নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরে। আর ওই কাজে ঝুঁকিও রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প নিজের ঘনিষ্ঠমহলে দাবি করেছেন, ইউরেনিয়াম রাখতে পারে না ইরান। আলোচনার টেবিলে তারা তা দিতে না চাইলে ‘জোর করে বাজেয়াপ্ত’ করার দাবিও তুলেছেন ট্রাম্প। তিনি এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে। দ্রুতই চুক্তি হয়ে যাবে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প।

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধে ইতি টানতে রবিবার আলোচনায় বসে পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক। ইসলামাবাদে হয় সেই বৈঠক। তেহরান বা ওয়াশিংটনের কোনও প্রতিনিধি সেখানে ছিলেন না। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষের আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে পারলে তারা সম্মানিত বোধ করবে।

ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলা চালাচ্ছে আমেরিকাও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর নেপথ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন। তবে একটা বিষয়ে তিনি বরাবর অনড় ছিলেন, তেহরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র রাখা চলবে না।

মার্কিন সাংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হয়, পশ্চিম এশিয়ায় আরও ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের চিন্তাভাবনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আর সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই জল্পনা জোরালো হতে শুরু করে, তা হলে কি ইরান ভূখণ্ডে স্থল অভিযানে নামতে চলেছে আমেরিকা? তার পরই শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হয়, ৩৫০০ সেনা নিয়ে মার্কিন রণতরী পৌঁছেছে পশ্চিম এশিয়ায়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে আবার দাবি করা হয়েছে, খার্গ দ্বীপ দখল করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হরমুজ় প্রণালীর কাছে উপকূল এলাকায় নজরদারিও শুরু করেছে মার্কিন সেনা, যা জল্পনাকে আরও উস্কে দিচ্ছে। এ বার জল্পনা, ইরানের ইউরেনিয়াম নিতেই স্থল অভিযান চালাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপে যথেষ্ট ঝুঁকিও রয়েছে। এক, ইরান ছেড়ে কথা বলবে না। তাদের বাহিনীর থেকে বাঁচিয়ে ইউরেনিয়াম দেশ থেকে বার করে আনা সহজ হবে না। সূত্রের খবর, ইরানের কাছে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তা রাখতে ৪০ থেকে ৫০টি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হবে। স্কুবা ডাইভিংয়ের ট্যাঙ্কের মতো দেখতে সেগুলিকে। ওই ট্যাঙ্ক আনার জন্য বিশেষজ্ঞের দলের প্রয়োজন। একটু এদিক ওদিক হলে বিপত্তি হতে পারে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিচার্ড নেফিউ জানান, ওই সিলিন্ডার আনতে প্রচুর ট্রাকের প্রয়োজন। কারণ, একটি ট্রাকে জায়গা থাকলেও খুব বেশি সিলিন্ডার তোলা যাবে না। গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে গোটা সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। আর তা যথেষ্ট বিপজ্জনক।

অন্য দিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে তার প্রশাসনের অনেকের। গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গাবার্ড এই অভিযান নিয়ে সহমত নন বলেই খবর। সে কথা সপ্তাহান্তে মার-আ-লাগো রিসর্ট থেকে ফেরার পথে নিজেই জানান ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মনে হয় তিনি এই বিষয়ে একটু নম্রভাব পোষণ করেন।’’ প্রশ্ন, তবে কি শেষ পর্যন্ত ইরানে অভিযান চালিয়ে ইউরেনিয়াম আনতে পারবেন ট্রাম্প?

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy