দুবাই বিমানবন্দরের সামনে ফের ড্রোন হামলা। জ্বালানির ট্যাঙ্কে ড্রোন ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মুহূর্তে সেখানে আগুন ধরে যায়। ঘটনার জেরে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দুবাই বিমানবন্দর থেকে সমস্ত বিমানের ওঠানামা সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই দুবাইতে ড্রোন হামলা হয়। বিমানবন্দরের সামনে একটি জ্বালানির ট্যাঙ্কে ড্রোন এসে পড়ে এবং তাতে আগুন ধরে যায়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আগুন নেবানোর কাজে মোতায়েন করেন। তবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। গোটা এলাকার নিরাপত্তা এবং নজরদারি আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংশ্লিষ্ট জ্বালানির ট্যাঙ্কটি। বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দুবাইয়ের অসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী।
আরও পড়ুন:
দুবাইতে কারা ড্রোন ফেলল, এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মনে করা হচ্ছে, নেপথ্যে ইরানের হাত রয়েছে। গত কয়েক দিনে একাধিক বার ইরানের ড্রোনের নিশানায় থেকেছে দুবাই-সহ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিভিন্ন শহর। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছিলেন, দুবাইয়ের খুব কাছে অবস্থিত একটি ঘাঁটি থেকেই তাদের খার্গ দ্বীপে বোমা ফেলেছে আমেরিকা। ফলে ইরানের নিশানায় আগামী কয়েক দিন যে দুবাই থাকতে চলেছে, সে বিষয়ে অনেকেই নিশ্চিত।
সোমবারের ঘটনার পরেই কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেন, যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের সুরক্ষার কথা ভেবে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সমস্ত বিমানের ওঠানামা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। বিমান সংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শও দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত দুবাই বিমানবন্দরে পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এটি বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলির মধ্যে অন্যতম। আকাশপথে বহু গুরুত্বপূর্ণ শহরের সেতুবন্ধনের কাজ করে দুবাই। সোমবার সকালে আচমকা এই ঘোষণার পর তাই বহু যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। অনেক বিমানের সূচি পরিবর্তিত হয়েছে। দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক ঘোষণায় জানিয়েছেন, কিছু বিমান দুবাইয়ের পরিবর্তে আল-মাকটোউম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেবে।
গত শুক্রবার রাতে ইরানের তেলের প্রধান ঘাঁটি খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। তার পরেই আরাঘচি দাবি করেন, এই হামলার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দু’টি ঘাঁটি আমেরিকা ব্যবহার করেছে। তার মধ্যে একটি দুবাইয়ের খুব কাছে অবস্থিত। তবে জনবহুল এলাকায় হামলা না-চালানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছিলেন আরাঘচি। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের শুরু থেকেই ইরানের হামলার নিশানায় রয়েছে আমিরশাহি। এখনও পর্যন্ত ১৮০০-র বেশি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র সে দেশে ছুড়েছে ইরান, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য যে কোনও দেশের চেয়ে বেশি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
ইরান যদি সমঝোতায় রাজি না হয়, পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে আমেরিকার? জানিয়ে দিলেন মার্কিন বিদেশসচিব রুবিয়ো
-
ইরানের তিন দফা প্রস্তাব না-ও মানতে পারে ট্রাম্পের প্রশাসন! শান্তি আলোচনার পথের কাঁটা কি সেই পারমাণবিক কর্মকাণ্ডই?
-
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মোকাবিলা করতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে ‘আয়রন ডোম’ দিচ্ছে ইজ়রায়েল! দাবি রিপোর্টে
-
পাকিস্তানে ফের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত আমেরিকা-ইরান, তবে প্রথম বারের দুই নেতাই বাদ! কোন দেশ কাকে সরাল? কেন?
-
পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী! আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার দরজা কি খুলবে?