Advertisement
E-Paper

খামেনেইয়ের উত্তরসূরি কে? নিহত আয়াতোল্লার ঘনিষ্ঠকে রাখা হল দেশ পরিচালনায় তৈরি অস্থায়ী কমিটিতে

প্রত্যাঘাত শুরু করেছিল আগেই। এ বার নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল তেহরান। জানিয়ে দিল, ‘বদলা’ তারা নেবেই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫২
আয়াতোল্লা আরাফি। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে অস্থায়ী ভাবে সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

আয়াতোল্লা আরাফি। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে অস্থায়ী ভাবে সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে অস্থায়ী ভাবে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের জন্য একটি কমিটির গঠন করল ইরান। তিন সদস্যের ওই কমিটিতে রাখা হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ আলিরেজ়া আরাফিকে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। এত দিন তিনি ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্ট্‌স-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসাবে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে ইরানের শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন আয়াতোল্লা আরাফি।

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও দমছে না ইরান। প্রত্যাঘাত শুরু করেছিল আগেই। এ বার নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল তেহরান। জানিয়ে দিল, ‘বদলা’ তারা নেবেই। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান জানান, প্রতিশোধ নেওয়াটা ইরান নিজেদের বৈধ অধিকার এবং আশু কর্তব্য হিসাবে দেখছে এবং এই কর্তব্য পালনে কোনও খামতি রাখবে না তেহরান।

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে এটিই প্রথম বিবৃতি ইরানের প্রেসিডেন্টের। খামেনেই এবং ইরানি প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিশানা করেই শনিবার হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। ওই হামলাতেই মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার। সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজ়াদা, সেনাপ্রধান আব্দুল রহিম মৌসাভি এবং এক সেনা কমান্ডারেরও মৃত্যু হয়। তাঁদের মৃত্যুর পরে এ বার আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন পেজ়েশকিয়ান। খামেনেই এবং অন্য শীর্ষ আধিকারিকদের মৃত্যুর ‘বদলা’ নেওয়া ইরানের ‘বৈধ অধিকার এবং কর্তব্য’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরে শোকবার্তায় পেজ়েশকিয়ান বলেন, “যারা এই ঐতিহাসিক অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া এবং ন্যায়বিচার পাওয়াকে আমরা নিজেদের কর্তব্য এবং বৈধ অধিকার বলে মনে করছি। এই মহান কর্তব্য পালন করতে আমরা নিজেদের সকল শক্তি কাজে লাগাব।” বস্তুত, খামেনেই-পরবর্তী আমলে ইরানকে কে নেতৃত্ব দেবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজ়া আরিফও। সকল মন্ত্রী এবং গভর্নরদের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তৈরি থাকতে বলেছেন তিনি। ইরানের প্রশাসন পরিচালনায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের উদ্দেশে ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর প্রধান আলি লারজানি। তিনি খামনেইয়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অন্যতম বলেই পরিচিত। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোরের প্রাক্তন কমান্ডার ছিলেন তিনি। খামেনেই-হত্যার পরবর্তী সময়ে তিনি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।

বস্তুত, খামেনেইকে যে খুন করা হতে পারে, সেই আশঙ্কা করছিলেন সর্বোচ্চ নেতা স্বয়ং। সেইমতো পরিকল্পনাও তৈরি করে ফেলেছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগেই সূত্র মারফত জানা যায়, খামেনেইকে হত্যা করা হলে জরুরি পরিস্থিতিতে ইরানের দায়িত্ব কাদের উপর থাকবে, তা গত জানুয়ারিতেই স্থির করে ফেলেছিলেন তিনি। লারজানি এবং অন্য মুষ্টিমেয় কয়েকজন অনুগতের উপরে সেই দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন খামেনেই। রবিবার মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি বাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লারজানির দাবি, ইরান এ বার এমন হামলা চালাবে, যা কেউ কোনও দিন কল্পনাই করতে পারেনি।

খামেনেই-ঘনিষ্ঠ ওই সামরিক নেতা বলেন, “গতকাল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ওদের ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। আজ আমরা ওদের উপর এমন হামলা করব, যা ওরা কখনও দেখেনি।” লারজানির এই হুঁশিয়ারির পরে পাল্টা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমাদমাধ্যমে লেখেন, “ওরা বলছে ওরা নাকি আরও জোরালো হামলা করবে। ওরা এমন না করলেই ভাল। কারণ যদি ওরা এমন কিছু করে, আমরাও এমন হামলা করব, যা ওরা কখনও দেখেনি।”

Ayatollah Ali Khamenei
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy