আলি লারিজানির মৃত্যুর পর তাঁর জায়গায় কে বসবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে তার অবসান ঘটল। দেশের নিরাপত্তা প্রধান হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রাক্তন কমান্ডার বাঘের জ়োলগাদরকে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর প্রধান হচ্ছেন বাঘের। আইআরজিসি-তে ব্রিগেডিয়ার জেনারেলও হয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়াও, ইরানের ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এ ছিলেন। এই কাউন্সিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্থা।
দিনকয়েক আগেই ইজ়রায়েলি হামলায় মৃত্যু হয় লারিজানির। ওই হামলায় একই সঙ্গে মৃত্যু হয় তাঁর পুত্র এবং দেহরক্ষীরও। লেফটেন্যান্ট লারিজানি ছিলেন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের প্রাক্তন কমান্ডারও ছিলেন। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সচিবপদেও ছিলেন তিনি। খামেনেইয়ের পর ইরান প্রশাসনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন লারিজানি।
আরও পড়ুন:
লারিজানির মাথার দাম ঠিক করে রেখেছিল আমেরিকা। তাঁর মৃত্যুর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেয় ইরান। সে দেশের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল আমির হাতানি হুঁশিয়ারি দেন, লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধ হবে ‘চূড়ান্ত এবং দুঃখজনক’। একই সুরে সুর মেলান ইরানের খাতাম আল-আনবিয়ার কেন্দ্রীয় সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহিও। তার পর থেকেই প্রায় সপ্তাহ জুড়ে বার বার প্রত্যাঘাত করে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় তারা। তবে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আপাতত পাঁচ দিন ইরানের কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে না। এ-ও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক। যদিও ট্রাম্পের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।