হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা দূর করতে আগ্রহী ইরান। রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক জলপথ সংস্থা (আইএমও)-র সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতাও করতে চায় তারা। বাকিদের জন্য জলপথ খুলে দিতে আগ্রহী হলেও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে এই ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ইতিমধ্যে চতুর্থ সপ্তাহে পড়ে গিয়েছে। সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালীকে দৃশ্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। কূটনৈতিক আলাপ আলোচনার পরে কিছু ভারতীয় জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী পার করতে দিয়েছে ইরান। তবে এখনও বেশ কিছু জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবারই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন মোদী। উন্মুক্ত জলপথের গুরুত্বও উঠে আসে আলোচনায়।
এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক জলপথ সংস্থায় হরমুজ় প্রণালী নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল তেহরান। ইরানের দূত আলি মৌসাভি জানান, ‘শত্রুপক্ষের’ জাহাজ ছাড়া সকল জাহাজই হরমুজ় প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে। ওই নির্দিষ্ট কিছু জাহাজ ছাড়া বাকি সকল জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ় প্রণালী খোলা রয়েছে। তিনি আরও জানান, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইএমও এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তেহরান। হরমুজ় প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা এবং ইজ়রায়লকেই দায়ী করছে ইরান। তাদের দাবি, এই দুই দেশের হামলার ফলেই হরমুজ়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কিছু ভারতীয় জাহাজকে ‘অবরুদ্ধ’ হরমুজ় প্রণালী নিরাপদে পার করার ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। তবে এখনও ওই জলপথে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। সমুদ্রপথের ওই অনিশ্চয়তা কাটানোর বিষয়েও শনিবার পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘সমুদ্রপথগুলি খোলা রাখা এবং সেগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। নৌচলাচলের স্বাধীনতা থাকা দরকার। এগুলির গুরুত্বের কথা জানিয়েছি।’
ইতিমধ্যে ভারত, চিন, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপানের জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পার করার ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে ইরান। দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স এবং ইতালিও ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ‘শত্রুদেশের’ জাহাজ বলতে কোন কোন দেশের কথা ইরান বোঝাতে চেয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের কথাই বলতে চেয়েছে তেহরান।