‘নিরস্ত্র’ ইরানি রণতরীর উপর মার্কিন হামলার নিন্দা করল তেহরান। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী সঈদ খাতিবজ়াদেহ জানান, ‘‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।’’ তিনি এ-ও জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বে ইরান।
বুধবারই ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানের এক রণতরীতে হামলা চালায় আমেরিকার ডুবোজাহাজ। টর্পেডো ছুড়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয় ইরানের ওই যুদ্ধজাহাজকে। খাতিবজ়াদেহ বলেন, ‘‘ভারতের আমন্ত্রণে বহুপাক্ষিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল ইরানি রণতরী ‘ডেনা’। সেই মহড়া সেরে দেশে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কা উপকূলে তার উপর হামলা চালানো হয়েছে।’’ এই হামলায় অনেক নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তার দায় এড়াতে পারে না আমেরিকা, দাবি ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রীর।
আমেরিকার কাছে মাথা নত করবে না ইরান, তা আবার একবার বুঝিয়ে দেন খাতিবজ়াদেহ। তাঁর দাবি, আমেরিকা-ইজ়রায়েল হামলার প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন ইরানের কাছে অগ্রাধিকার। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের কাছে থাকা শেষ বুলেট দিয়ে প্রতিরোধ করব। এ ছাড়া, আমাদের কোনও বিকল্প নেই। আক্রমণকারীদের থামাতেই হবে।’’ খাতিবজ়াদেহ বর্তমানে নয়াদিল্লিতে রয়েছেন। রাইসিনা সম্মেলনে বক্তৃতা করার সময় তিনি পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের জবাব দেন।
আরও পড়ুন:
রণতরী ‘ডেনা’-য় হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২০০০ মাইল (৩২১৮ কিলোমিটার) দূরের সমুদ্রে এক নির্মম কাণ্ড ঘটিয়েছে আমেরিকা। কোনও সতর্কবার্তা না দিয়েই আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নৌসেনার অতিথি ফ্রিগেট ‘ডেনা’র উপরে হামলা করে তারা। জাহাজে তখন প্রায় ১৩০ জন ছিলেন। মনে রাখবেন, আমেরিকা যে কাণ্ড ঘটিয়েছে তার জন্য ওদের পস্তাতে হবে।” এ বার একই বিষয়ে ভারতে বসে মুখ খুললেন তাঁর ডেপুটি।