আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে কোনও শান্তি আলোচনা আদৌ হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। এরই মধ্যে আমেরিকাকে ফের হুমকি দিয়ে রাখল ইরান। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে। ওই ক্যাম্পাসগুলিতে এ বার হামলার হুমকি দিল ইরান। এর আগে মার্কিন-ইজ়রায়েলি হানায় ইরানের দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে তেহরান। এ বার প্রত্যাঘাতের হুমকি দিয়ে রাখল তারা।
ইরানের রিভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, আমেরিকা যদি চায় পশ্চিম এশিয়ায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিরাপদ থাকুক, তবে তাদের ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে হামলার নিন্দা জানাতে হবে। এর জন্য সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তারা জানিয়েছে, সোমবার, ৩০ মার্চ দুপুর ১২টা (তেহরানের সময় অনুযায়ী)-র মধ্যে বিবৃতি প্রকাশ করে নিন্দা জানাতে হবে আমেরিকাকে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্যাম্পাস থেকে সকলকে এক কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ারও ‘পরামর্শ’ দিয়েছে ইরানি বাহিনী।
পশ্চিম এশিয়ায়, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছড়িয়ে রয়েছে। যেমন কাতারে রয়েছে টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, আবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে রয়েছে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। এমন আরও বেশ কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। এ বার সরাসরি সেই ক্যাম্পাসগুলিতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল তেহরান। সংবাদসংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, শুক্রবার বেশি রাতের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা হয়েছে। ওই হামলায় তেহরানের উত্তরপূর্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
আরও পড়ুন:
ওই হামলার পরই এ বার ইরানের সেনা দাবি করল মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি হানায় তাদের দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই হামলার নিন্দা না জানালে প্রত্যাঘাতেরও হুমকি দিয়ে রাখল তারা। বস্তুত, ইরানে বিরুদ্ধে মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি বাহিনী যুদ্ধ শুরুর সময়ে ইরানের মিনাব শহরের এক প্রাথমিক স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ওই হামলায় শিক্ষক এবং পড়ুয়া-সহ ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়। তা নিয়ে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে আমেরিকা। যদিও হামলা কারা করেছিল, তা স্পষ্ট ভাবে জানায়নি মার্কিন প্রশাসন। তবে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুসন্ধানে ইঙ্গিত, মার্কিন বাহিনীই ভুল করে ওই হামলা চালিয়েছিল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘আমাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের অবস্থাও হত গাজ়ার মতো’! দাবি পেজ়শকিয়ানের, নিশানায় আমেরিকা
-
‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
হিজ়বুল্লা-নিধনে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়ে গেলেও ‘স্পিকটিনট’! ৩০০০০ কোটি ডলারে ইরানের মুখ বন্ধ করল আমেরিকা?
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?