স্কুল তাড়িয়ে দিয়েছিল চার বছর আগে। ‘বদলা’ নিতেই কানাডার সেই স্কুলে হামলা চালান রূপান্তরকামী জেসি ভ্যান রুটসেলার। শুধু তা-ই নয়, স্কুলে হামলার আগে বাড়িতে মা এবং সৎভাইকে খুন করেন। তার পর স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে স্কুলে হাজির হন। ঢুকেই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন জেসি। সেই ঘটনায় স্কুলের আট জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২৪ জন। পুলিশের পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় হামলাকারী জেসিরও।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক শিক্ষিকা, পাঁচ পড়ুয়া। তাঁদের মধ্যে ১২ বছরের তিন ছাত্রী এবং এবং আরও দুই ছাত্র। এ ছাড়াও স্কুলের গ্রন্থাগারে আরও দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের সন্দেহ, ‘বদলা’ নিতে স্কুলে হামলা চালিয়েছেন জেসি। তবে এটিই একমাত্র কারণ কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলেই জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তবে পুলিশের একটি সূত্র আবার দাবি করেছে, জেসির মানসিক কোনও সমস্যা ছিল।
আরও পড়ুন:
টাম্বলার স্ট্রিটের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ডোয়েন ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, গত কয়েক ধরে জেসির মানসিক চিকিৎসা চলছিল। তাঁর বাড়িতেও পুলিশ এর আগে বেশ কয়েক বার গিয়েছিল। সংবাদসংস্থা এএফপি এক পুলিশকর্তাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেও সেটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্তও করেছিল আগে। যদিও পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আরও জানা গিয়েছে, মানসিক সমস্যার কারণে জেসির কাউন্সেলিংও চলছিল। তাঁর উপর নজরদারিও চালাত পুলিশ। জেসির কাছ থেকে একটি বন্দুক এবং পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, টাম্বলার স্ট্রিট থেকে প্রথমে তারা খবর পায় সেখানে একটি বাড়িতে গুলি চলেছে। খবর পেয়ে সেখানে যায় পুলিশ। গিয়ে দেখে, ঘরের মধ্যে এক মহিলা এবং এক কিশোর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তার কিছু ক্ষণ পরেই খবর আসে টাম্বলার রিজে টাউন স্কুলে বন্দুকবাজের হামলা হয়েছে। তার পরই জানা যায়, টাউন স্কুল এবং টাম্বলার স্ট্রিটের হামলাকারী একই ব্যক্তি। এর আগে ২০২০ সালে বন্দুবাজের হামলা হয়েছিল কানাডায়। সেই সময় নোভা স্কটিয়ায় বন্দুকবাজের হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।