Advertisement
E-Paper

ইজ়রায়েলকে নিয়ে ৭৮ বছরের অবস্থান বদলাবে না পাকিস্তান! আব্রাহাম চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব খারিজ ইসলামাবাদের

আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে পাকিস্তানের। কিন্তু ওই দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কখনওই মধুর ছিল না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১৭:১১
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদন সত্ত্বেও আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেবে না পাকিস্তান। সম্প্রতি এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। আসিফের বক্তব্য, ট্রাম্পের প্রস্তাব মানলে পাকিস্তানকে মৌলিক আদর্শের সঙ্গে আপস করতে হবে। আর সেই আপসের পথে হাঁটতে চায় না ইসলামাবাদ।

আরব দেশগুলির সঙ্গে ইজ়রায়েলের সম্পর্ক ‘স্বাভাবিক’ করতে ২০২০ সালে ট্রাম্পের মধ্যস্থতাতেই আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পের প্রথম দফায় এই চুক্তিতে ইজ়রায়েলের পাশাপাশি স্বাক্ষর করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বাহরিন। পরে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে মরক্কো, সুদান এবং কাজাখস্তান। চুক্তিতে স্বাক্ষর না-করলেও ইজ়রায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে মিশর এবং জর্ডনের। তবে ট্রাম্প চান সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার এবং পাকিস্তানকে আব্রাহাম চুক্তিতে শামিল করতে।

কিন্তু এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে পাকিস্তানকে। কিন্তু ওই দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কখনওই মধুর ছিল না। গত ৭৮ বছরে পাকিস্তান এক বারও ইজ়রায়েলকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে ইজ়রায়েলে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাকিস্তানের এই অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “আমাদের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে আপস করে এই ধরনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করা উচিত নয় বলেই মনে করি।” তার পরেই ইজ়রায়েলের নাম না-করে তাঁর কটাক্ষ, “যাদের কথা এক দিনের জন্যও বিশ্বাস করা যায় না, তাদের সঙ্গে আপনি একসঙ্গে বসবেন কী করে?”

সম্প্রতি ইজ়রায়েল নিয়ে পাকিস্তানের পাসপোর্ট নীতি বদলের প্রস্তাব জমা পড়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন পাক সেনাপ্রধান। মুনির বলেন, “আমরাই একমাত্র দেশ, যাদের পাসপোর্টে ইজ়রায়েলের নাম পর্যন্ত উল্লিখিত নেই।”

ট্রাম্প গত কয়েক দিন ধরেই আব্রাহাম চুক্তিতে বিশ্বের অন্যান্য ইসলামিক দেশকে যুক্ত করতে চাইছেন। এমনকি বিষয়টিকে তিনি ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আসার অন্যতম হাতিয়ার হিসাবেও ব্যবহার করছেন। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে হোয়াইট হাউসের কাছে নিজেদের গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে চাওয়া পাকিস্তান ট্রাম্পকে চটাতে চায় না। কিন্তু ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হলে দেশের অন্দরে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে পাক সরকারকে। পাকিস্তান বরাবরই স্বাধীন প্যালেস্টাইন দেশ গঠনের দাবি জানিয়ে এসেছে। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে ‘গাজ়া বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিলেও আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের বিষয়টি সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু এ বার এই বিষয়ে চাপ বৃদ্ধি করছেন ট্রাম্প।

অন্য দিকে, আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের আর্জি জানাতে গিয়ে ট্রাম্প যে ভাবে মুনিরের নাম করেছেন, তা নিয়েও অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে পাক সরকারকে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনেই এই আর্জি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের কাছে জানানোর কথা। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরেই পাকিস্তান সম্পর্কিত বিষয়ে ট্রাম্প মুনিরের কথা বললেও শাহবাজ়ের নাম প্রায় উচ্চারণই করেনি। সে দেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ আদৌ পাক সরকারের হাতে রয়েছে, নাকি সেনাই সবটা পরিচালনা করছে, এই বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছেন ট্রাম্প। সেই অস্বস্তি কাটতে না কাটতেই এ বার পাকিস্তানকে ইজ়রায়েল প্রশ্নে উভয়সঙ্কটে ফেললেন ট্রাম্প।

US Donald Trump General Asim Munir
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy