Advertisement
E-Paper

ফের উত্তপ্ত ফার্গুসন, জারি জরুরি অবস্থা

মার্কিন পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ মাইকেল ব্রাউনের মৃত্যুর বর্ষপূর্তি ঘিরে ফের উত্তাল হল ফার্গুসন। জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে সেখানে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১২ অগস্ট ২০১৫ ০২:৫৩

মার্কিন পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ মাইকেল ব্রাউনের মৃত্যুর বর্ষপূর্তি ঘিরে ফের উত্তাল হল ফার্গুসন। জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে সেখানে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আঠারো বছরের এক কিশোরের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর গুলি চালানোর অভিযোগও দায়ের হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। মাইকেলকে মনে রেখে ফার্গুসন, মিসৌরির রাস্তায় জড়ো হয়েছিলেন হাজারো মানুষ। গত বছর ৯ অগস্ট প্রকাশ্য রাস্তায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন নিরস্ত্র মাইকেল। সেই হত্যারই প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তাঁরা। ড্রাম বাজিয়ে, স্লোগান দিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েক জন হঠাৎই চড়াও হন তাঁদের উপর। রাস্তা ব্লক করে, পুলিশকে লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকেন বোতল, পাথর। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে মরিচগুঁড়ো, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। রাতভর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলে।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিল বছর আঠারোর টিরন হ্যারিসও। পুলিশের দাবি, হ্যারিসের কাছে বন্দুক ছিল। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল সে। গুলি লাগে এক পুলিশকর্মীরও। হ্যারিসকে ‘রুখতে’ পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হ্যারিস এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বিরুদ্ধে পুলিশকে নিগ্রহ-সহ ১০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ফার্গুসন, মিসৌরি থেকে আটক করা হয়েছে অন্তত ২৩ জনকে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মীরাও। দাঙ্গা ঠেকাতে তড়িঘড়ি জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন।

সেন্ট লুইস কাউন্টির এগজিকিউটিভ স্টিভ স্টেনজার জানান, খুব শিগগির ফার্গুসন আর সংলগ্ন জেলাগুলির দখল নেবে পুলিশ। তিনি বলেন, ‘‘হিংসা আর অশান্তির আবহে সম্পত্তি আর মানুষের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। কাউন্টি এগজিকিউটিভ হিসেবে তাই ক্ষমতার প্রয়োগ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছি।’’

প্রথমে মাইকেল, তার পর হ্যারিস। বর্ণবিদ্বেষের জেরে ফার্গুসন মিসৌরির পাশাপাশি তেতে ওঠে শিকাগো, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি-ও। মাইকেল সুবিচার পাননি। তাঁকে গুলি করে হত্যায় জড়িত পুলিশ অফিসার গত বছরই বেকসুর খালাস পেয়েছেন। রবিবার রাতে পুলিশের গুলিতে জখম হ্যারিসও মাইকেলের মতোই নিরস্ত্র ছিলেন বলেই দাবি বিক্ষোভকারীদের। হ্যারিসের বাবাও বলেছেন, ‘‘পুলিশ মিথ্যে বলছে। সে দিনের বিক্ষোভ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল।’’ হ্যারিসের আরোগ্য আর দ্রুত মুক্তি চেয়ে সোমবার রাত থেকে ফার্গুসনের রাস্তায় ফের ধর্নায় বসেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ধর্নাতেও লাঠি চালায় পুলিশ। তাতেও আন্দোলন থামেনি। আজ সকালেও ফার্গুসনের থানার সামনে শ’খানেক মানুষের ভিড় চোখে পড়েছে। ভিড়ের মধ্যেই উঁকি দিচ্ছিল একটি প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ‘‘বর্ণবিদ্বেষই শেষ করে দিচ্ছে আমেরিকাকে।’’

apartheid clash ferguson city ferguson clash ferguson unrest united states ferguson
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy