E-Paper

দন্ত চিকিৎসক সেজে মোসাদ-চর কি খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে

খামেনেইয়ের সন্ধান কী ভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প-বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুরা পেলন, তা নিয়ে নিত্যনতুন তথ্য সামনে আসছে। তাতে নয়া সংযোজন ছদ্মবেশী দন্ত চিকিৎসকের ভূমিকা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১০:১৩
আয়াতোল্লা আলি খামেনেই।

আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। — ফাইল চিত্র।

প্রস্তুতি চলছিল বহু বছর ধরে। শেষ পর্যন্ত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করছে আমেরিকা-ইজ়রায়েল। যার ফলে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে সংঘাতের আবহ। এই পরিস্থিতিতে নয়া তথ্যও সামনে এসেছে। বলা হচ্ছে, গোটা তেহরানের ট্র্যাফিক সিগন্যাল হ্যাক করেছিল ইজ়রায়েল। খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠবৃত্তে চর ঢুকিয়েছিল ইজ়রায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। দন্ত চিকিৎসক সেজে খামেনেই ঘনিষ্ঠদের মুখের ভিতর ‘ট্র্যাকিং চিপ’ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই নাকি নাগালে পাওয়া যায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে।

খামেনেইয়ের সন্ধান কী ভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প-বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুরা পেলন, তা নিয়ে নিত্যনতুন তথ্য সামনে আসছে। তাতে নয়া সংযোজন ছদ্মবেশী দন্ত চিকিৎসকের ভূমিকা। ইরানের শীর্ষ অধিকর্তা এবং খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঢুকে পড়তে সফল হয়েছিলেন মোসাদের চরেরা। দাঁত তোলা, দাঁতের ক্ষয় রোধ, সব কিছুতেই ডাক পড়তে শুরু করে তাঁদের। সেই চিকিৎসা করতে গিয়েই খামেনেই-ঘনিষ্ঠদের দাঁতের ভিতর নাকি বসিয়ে দেওয়া হত ‘ট্র্যাকিং চিপ’, যার মাধ্যমে তাঁদের গতিবিধি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পেত ইজ়রালের গুপ্তচর সংস্থাটি। গ্যাস্ট্রো চিকিৎসকরাও নাকি একই কাজ করতেন বলে দাবি।

এই দাবির সত্যতা নিয়ে কিন্তু সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসার নামে দীর্ঘ সময় ধরে এমন কাজ চালানো কার্যত অসম্ভব। যদিও বা গোপনে কোনও চিপ বসানো হয়ে থাকে, তা কোনও না কোনও ভাবে ধরা পড়বেই। এর সপক্ষে কোনও দৃঢ় প্রমাণ না-পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয় বলে মত তাঁদের।

খামেনেইয়ের হাতে গড়ে ওঠা ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসে মোসাদ নিজেদের গুপ্তচর ঢোকাতে সফল হয়েছিল বলেও দাবি। রেভলিউশনারি গার্ডসের কম্যান্ডার ইসমাইল কানি আসলে মোসাদের গুপ্তচর এবং আমেরিকার সিআইএ-র লোক বলেও অভিযোগ। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালালেও, তিনি বেঁচে গিয়েছেন এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। একটি সূত্র দাবি করেছে, হামলার কিছু ক্ষণ আগেও খামেনেইয়ের বাড়িতে ছিলেন ইসমাইল। হামলার ঠিক আগেই তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ইরান বা ইজ়রায়েলের তরফে এ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

আমেরিকার হাতে কাসেম সোলেমনির মৃত্যুর পর ২০২০ সলে কুদস-এর দায়িত্ব পান ইসমাইল। এই বাহিনী আসলে রেভলিউশনারি গার্ডসের বিদেশি শাখা। যারা বিদেশে ইরানের হয়ে কৌশলী অভিযান চালায়। পাশাপাশি, মোসাদ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘বাদে সাবা’-র অ্যাপ হ্যাক করে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে সরকারি ভাবে এ সব নিয়ে কোনও দেশ বিবৃতি দেয়নি। ফলে চর্চা চলতেই থাকবে!

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Iran Israel Crisis america

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy