আমেরিকার সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাশিয়া। নিজেদের তেহরানের বিশ্বস্ত বন্ধু বলে দাবি করল মস্কো। জানিয়ে দিল, রাশিয়া এমন এক বন্ধুরাষ্ট্র, যার উপর ভরসা রাখতে পারে ইরান।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ হামলার শুরু থেকেই নিন্দা জানিয়ে আসছে রাশিয়া। শনিবার ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে পুতিনের এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, পুতিনের এই মন্তব্যের ঠিক আগেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’ দাবি করে, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার পথে যেতে চাইছে রাশিয়া।
আমেরিকা যদি ইউক্রেনকে সাহায্য করা বন্ধ করে দেয়, তবে রাশিয়াও ইরানের পাশ থেকে সরে দাঁড়াবে। মস্কো থেকে এমনটাই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয় ওই রিপোর্টে। একই সঙ্গে এ-ও বলা হয়, আমেরিকা সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। যদিও রাশিয়ার দাবি, এমন কোনও প্রস্তাবই দেওয়া হয়নি আমেরিকাকে। ঘটনাচক্রে, এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার কিছু সময়ের মধ্যেই এ বার ইরানের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রকাশ্যে বার্তা দিল রাশিয়া।
শনিবার ইরানি নববর্ষে সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান পুতিন। সেই বার্তার মূল নির্যাস বিবৃতি আকারে প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সম্মানের সঙ্গে একের পর এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য ইরানের সাধারণ জনতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, তেহরানের বিশ্বস্ত বন্ধু মস্কো। ভরসাযোগ্য বন্ধু হিসাবে এই কঠিন সময়ে ইরানের পাশে থাকবে রাশিয়া।”
আরও পড়ুন:
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের এই সামরিক অভিযানের ফের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। তাদের দাবি, এই হামলা গোটা পশ্চিম এশিয়াকে পিছনের দিকে ঢেলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটও যে এই হামলার ফলেই শুরু হয়েছে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে মস্কো। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যারও নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।
এ মাসের গোড়াতেই ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সঙ্গে সামরিক সংঘাতের আবহে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করেছে রাশিয়া। পশ্চিম এশিয়ায় কোথায় আমেরিকার রণতরী এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হচ্ছে, ইরানের হাতে সেই তথ্য তুলে দিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। যদিও ক্রেমলিন সেই দাবিকে খণ্ডন করেছে।
আবার রাশিয়া সম্পর্কে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে আমেরিকা, এমন খবরও ছড়িয়েছে। আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুক্ত এমন দুই প্রশাসনিক কর্তার দাবিকে উদ্ধৃত করে ‘পলিটিকো’ জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে যদি আমেরিকা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করা বন্ধ করে, তা হলে সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার সামরিক সংঘাতে ইরানের পাশ থেকে রাশিয়া সরে দাঁড়াবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও রাশিয়ার তরফে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের কোনও প্রস্তাবই দেওয়া হয়নি আমেরিকাকে।