ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের পরে এ বার মার্কিন সেনার নিশানায় রুশ জাহাজ। যা ঘিরে বুধবার নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত খবর জানাচ্ছে, অতলান্তিক মহাসাগরে তেলবাহী রুশ জাহাজের পিছু নিয়েছিল মার্কিন নৌসেনা। আর তা জানতে পেরে মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে পাঠানো হয় ডুবোজাহাজ এবং যুদ্ধজাহাজ!
প্রকাশিত খবরে দাবি, ভেনেজ়ুয়ালার তেল পরিবহণে ব্যবহৃত বেলা-১ নামের ওই ট্যাঙ্কারটিকে আইসল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যবর্তী এলাকায় অনুসরণ করছিল মার্কিন জাহাজ। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সেটি দখল করতে পারে মার্কিন ফৌজ। গোটা দশেক মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার ঘেরাও করেছিল বেলা-১-কে। কিন্তু অকুস্থলে পৌঁছে পুতিনের নৌবহর হামলা না-করার বার্তা পাঠায় বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত রুশ ডুবোজাহাজের পাহারায় বেলা-১ গন্তব্যের দিকে পাড়ি দিচ্ছে। রুশ বিদেশ দফতর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।
আরও পড়ুন:
তিন মার্কিন সেনাকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেলবাহী জাহাজটির উপর হামলা না-করার অনুরোধ করেছে মস্কো। একদা ইরানের তেল পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হত বেলা-১। পরবর্তী সময় ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজ়ুয়েলা সরকার এই ট্যাঙ্কারটিকে তেল পরিবহণের কাজে ব্যবহার করত পরে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি। ডিসেম্বরে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন উপকূলরক্ষীরা তেলবাহী জাহাজটিকে দখল করারও চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। সে সময় ভেনেজ়ুয়েলা সরকার ওয়াশিংটনের এই হামলার নিন্দা করেছিল।
সে সময় তেলবাহী জাহাজটিতে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র গায়নার পতাকা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার পতাকা ওড়ানো হয়। সরাসরি বেলা-১-এর নাম না-নিলেও মার্কিন সেনার সাদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, অতলান্তিক মহাসাগরের ওই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া ‘নিষিদ্ধ’ঘোষিত জাহাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে তারা। এমনই একটি জাহাজকে অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও পেন্টাগনের দাবি। ফলে সংঘাতের সম্ভাবনা এখনও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।