সৌদি আরবে মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে হামলার আগে সেখানকার উপগ্রহচিত্র ইরানকে সরবরাহ করেছিল রাশিয়া। এমনই দাবি করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। শুক্রবার সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালায় ইরান। সেই হামলায় ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হন। সেই হামলা নিয়ে মুখ খুললেন জ়েলেনস্কি। তাঁর দাবি, এই হামলায় ইরানকে সহযোগিতা করেছে রাশিয়া। যদিও এ প্রসঙ্গে ইরান বা রাশিয়া কোনও মন্তব্য করেনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সকালে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরান পর পর ছ’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৯টি ড্রোন হামলা চালায় বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা এপি। সেই হামলার প্রসঙ্গ তুলে জ়েলেনস্কি এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে দাবি করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলির উপগ্রহচিত্র নিয়ে সেগুলি ইরানকে হস্তান্তর করেছে রাশিয়া। ২৪ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে সেই ছবি তোলা হয়েছিল। সৌদি, কাতার, কুয়েত, তুর্কি এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কিছু সংবদেনশীল জায়গার ছবি তুলেছে রাশিয়ার উপগ্রহচিত্র। ঘটনাচক্রে, ২৭ মার্চ সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।
আরও পড়ুন:
জ়েলেনস্কির আরও দাবি, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা-ব্রিটেনের যৌথ সেনাঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়ার ছবি তোলা হয়েছে ২৪ মার্চ। তাঁর কথায়, ‘‘কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গ্রেটার বুর্গান তৈলক্ষেত্রের ছবি তোলা হয় ওই একই দিনে। ২৫ মার্চ সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির ছবি তোলা হয়। এ ছাড়াও সেখানকার সায়বা তৈল এবং গ্যাসক্ষত্রের ছবি তোলা হয়েছে। তুরস্কের ইনকিরলিক এবং কাতারে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিরও ছবি তোলা হয়।’’
এনবিসি নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ়েলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলার আগের দিনগুলিতে সৌদির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির ছবি তোলা হয়েছে। আর সেই ছবি তোলা হয়েছে ২০, ২৩ এবং ২৫ মার্চ। আরও জানান, তিনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত ইরানকে গোয়ন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে রাশিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করেন রাশিয়া কি ইরানকে সাহায্য করেছে? আমি বলব, ১০০ শতাংশ সাহায্য করছে।’’