সংঘর্ষ থামানোর জন্য এ বার নতুন শর্ত চাপাল ইরান। হরমুজ় প্রণালীর উপরে পূর্ণ কর্তৃত্ব চাইছে তারা। ইরানের দাবি, ওই জলপথের উপরে তাদের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এ বার আমেরিকার কাছে সেই শর্ত রাখল ইরান। প্রাথমিক ভাবে তেহরান যে শর্তগুলি রেখেছিল, তাতে এই দাবিটি ছিল না।
আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামানোর জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। আমেরিকার তরফে ১৫ দফা প্রস্তাব তারা ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে ইরানের কাছে। কিন্তু এখনই আলোচনায় যেতে নারাজ তেহরান। আমেরিকা এই প্রস্তাব পাঠানোর আগে থেকেই ইরান তিন দফা শর্তের কথা বলে আসছিল। প্রথমত, ইরানকে তার ‘ন্যায্য অধিকার’ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ইরানের যে লোকসান হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে তারা আগামী দিনে ইরানে আর আক্রমণ করবে না। তবে হরমুজ় সংক্রান্ত কোনও শর্ত সেখানে ছিল না।
পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝে সরু এক সমুদ্রপথ হল হরমুজ় প্রণালী। বিশ্বে যত তেল এবং এলপিজি সরবরাহ হয়, তার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ যায় এই জলপথ ধরেই। এই জলপথের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে বছরে কয়েকশো কোটি ডলার আয়ের পথ খুলতে পারে ইরানের কাছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির বিশ্লেষণে, সেই লক্ষ্যেই এই নতুন শর্ত চাপাচ্ছে ইরান।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই হরমুজ়কে দৃশ্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। এখন ভারত-সহ কিছু বন্ধুদেশের জাহাজকে হরমুজ় পারাপার করতে দিচ্ছে তেহরান। এ অবস্থায় নতুন শর্ত ঘোষণা করে হরমুজ় নিয়ে ইরান নিজেদের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করল বলেই মনে করছেন অনেকে। ব্লুমবার্গ ইকনমিক্সের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, “ইরান নিজেদের (হরমুজ়) কৌশলে কিছুটা অবাকই হয়েছে— আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে রাখা কতটা সস্তা এবং সহজ, তা বুঝতে পেরেছে ইরান। যুদ্ধ থেকে তারা এই শিক্ষাটি পেয়েছে এবং এই সুবিধাটিকে এ বার কাজে লাগাতে চাইছে।”
সিএনএন জানাচ্ছে, ইরানের এই নতুন শর্তের ফলে কী কী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, সে দিকে নজর রাখছে আমেরিকাও। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দু’দিন আগেই জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে হরমুজ়ে ‘টোল’ চালু করার চেষ্টা করতে পারে তেহরান। তবে এই ‘টোল’ ব্যবস্থা যে আমেরিকা মেনে নেবে না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। ফ্রান্সে জি-৭ গোষ্ঠীর বৈঠক শেষে রুবিও বলেন, “এটি শুধু বেআইনিই নয়, এটি কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। এটি গোটা বিশ্বের জন্যই বিপজ্জনক। এটি মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
ওমান প্রান্ত দিয়ে জাহাজ গেলেই তো মিটে যায় সমস্যা! তবু কোন সূত্রে হরমুজ়ে ‘অ্যাডভান্টেজ’ পায় ইরান? কোথায় আতঙ্ক?
-
চালাকির চেষ্টা করলেই ঝাঁপাব পুরো শক্তি দিয়ে, আমরা তৈরি! দ্বিতীয় বৈঠকের দিনক্ষণ নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই তোপ ইরানের
-
‘আমেরিকা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে’, আবার হরমুজ় অবরোধের ঘোষণা ইরানের! নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা
-
ট্রাম্পের ‘ঘাড়ে বন্দুক রেখে’ শত্রুদের খতম! পারস্যে শান্তি এলে আমেরিকার ‘বিশ্বাস’ ভাঙবেন ইহুদি প্রধানমন্ত্রী?
-
প্রথমে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর, ৬০ দিনেই ইরান-আমেরিকার চুক্তি পাকা হতে পারে! কোন কৌশলে এগোচ্ছে পাকিস্তান? নেপথ্যে কে