২০২৫ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে নজির গড়ল সৌদি আরব। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে এক বছরে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। পরিসংখ্যানের বিচারে যা ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৪ সালকেও। এর আগে কখনও ওই দেশে এক বছরে এত জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।
সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অধিকাংশ আসামি মাদক সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। গত কয়েক বছরে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যত ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করেছে সৌদি সরকার। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৫ সালে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা সকলেই যে ২০২৫ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন, তা নয়। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে মোট ২৪৩ জন মাদক অপরাধীর।
আরও পড়ুন:
২০২৪ সালেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে নজির গড়েছিল সৌদির পরিসংখ্যান। সে বছর মোট ৩৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। এ বার সেই পরিসংখ্যানকেও ছাপিয়ে গিয়েছে দেশটি। দিকে দিকে তাদের এই নীতি নিয়ে সমালোচনা চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও সরব। অভিযোগ, রিয়াধের এই নীতি অত্যধিক কঠোর। তা আধুনিক সহনশীল সমাজের ধারণাকে ক্ষুণ্ণ করছে। বর্তমানে সৌদির যে ভাবমূর্তি বিশ্বের দরবারে তৈরি হয়েছে, মাদক অপরাধের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের নীতি সেই ভাবমূর্তিরও পরিপন্থী বলে মত অনেকের। তবে সৌদি প্রশাসনের যুক্তি, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এবং মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করতে মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর নীতিই প্রয়োজন।
সৌদিতে দীর্ঘ দিন ধরেই মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। বিশ্বজোড়া সমালোচনার মাঝে তা তিন বছরের জন্য বন্ধ রাখা হয়। ২০২২ সালে ফের সেই নীতি চালু করা হয়েছে।