Advertisement
E-Paper

পাহাড়ের ফাটলে লুকিয়ে জখম পাইলট সতীর্থদের ডাকেন, কিন্তু হঠাৎ বিকল উদ্ধারের বিমান! কী কী ঘটেছিল মার্কিন অভিযানে

শত্রুদেশে আটকে পড়লে কী ভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হবে, কী ভাবে বেঁচে থাকতে হবে এবং পালাতে হবে, তার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় মার্কিন সেনাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল অন্য।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৩
আমেরিকার যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ায় ইরানে আটকে পড়েছিলেন পাইলট।

আমেরিকার যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ায় ইরানে আটকে পড়েছিলেন পাইলট। —ফাইল চিত্র।

ইরানের ইসফাহান প্রদেশে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছেন মার্কিন পাইলট। তাঁর এক পায়ের গোড়ালি মচকে গিয়েছিল। জখম অবস্থাতেই প্রায় সাত হাজার ফুট উঁচুতে পাহাড়ের ফাটলে লুকিয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে কোনও রকমে সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার পর তাঁকে উদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইরানে ঢোকে মার্কিন সেনা। ইসফাহান থেকে পাইলটকে উদ্ধারের এই দুঃসাহসিক অভিযানে পরতে পরতে ছিল রোমাঞ্চ এবং প্রাণহানির আশঙ্কা। যে কোনও মুহূর্তে সেনা অভিযান টের পেয়ে যেতে পারত ইরান। একবার ধরা পড়লে শত্রু দেশে মরতে হত শতাধিক আমেরিকানকে। কিন্তু তাঁদের তৎপরতা এবং নিখুঁত পরিকল্পনাই এই অভিযানকে সফল করে তুলেছে।

সংবাদসংস্থা রয়টার্স উদ্ধারকারী অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেছিল। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার ইরানে প্রবেশের পর মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই ধ্বংস হওয়ায় পাহাড়ের একটি ফাটলে লুকিয়ে ছিলেন জখম পাইলট। শত্রুদেশে আটকে পড়লে কী ভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হবে, কী ভাবে বেঁচে থাকতে হবে এবং পালাতে হবে, তার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় মার্কিন সেনাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল অন্য। ইরানের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারেননি জখম পাইলট কিংবা উদ্ধারকারী সেনারা। কারণ, তাঁরা প্রায় কেউই স্থানীয় ভাষা জানেন না। সূত্র উল্লেখ করে রয়টার্স জানিয়েছে, পাহাড়ের ফাটলে বসেই সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ওই পাইলট। যোগাযোগকারী যে নিখোঁজ পাইলটই, এটা যে ইরানের সেনার পাতা কোনও ফাঁদ নয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই মার্কিন বাহিনী উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছিল। ওই এলাকার আশপাশে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সাময়িক ভাবে বিকল করে দেওয়ার জন্য ‘জ্যামার’ বসানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বোমা ফেলে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে সহজে পাহাড়ের কাছে কেউ না পৌঁছোতে পারেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে জানিয়েছেন, সতীর্থদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যে রেডিয়োবার্তা পাঠিয়েছিলেন ওই পাইলট, তা প্রাথমিক ভাবে তা ইরানের পাতা ফাঁদ বলেই মনে হয়েছিল। ধর্মীয় শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন তিনি। পরে সেই বার্তা থেকেই বাকিরা পাইলটের পরিচিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন।

Advertisement

পাইলটকে উদ্ধারের জন্য দু’টি ছোট এমসি-১৩০ বিমান পাঠানো হয়েছিল। এগুলি কম আলোয় কাজ করতে পারে। অবতরণের জন্য অল্প জায়গা পেলেই চলে। এই দুই বিমানে প্রায় ১০০ জন বিশেষ প্রশিক্ষিত মার্কিন কমান্ডো গিয়েছিলেন ইরানে। রাতের অন্ধকারে জখম পাইলটকে তাঁরা উদ্ধার করেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আসে বাধা। উদ্ধারকারী বিমান দু’টিই বিকল হয়ে পড়ে। তাতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।

উদ্ধারের যাবতীয় পরিকল্পনা তখন ভেস্তে যাওয়ার পথে। যে কোনও মুহূর্তে শত্রুপক্ষের সেনা পৌঁছে যেত ইসফাহানের ওই দুর্গম এলাকায়। এই সময় বড় ঝুঁকি নেয় মার্কিন বাহিনী। অতিরিক্ত বিমান ওই এলাকায় পাঠানো হয়। তাতে ধাপে ধাপে বাহিনীর সদস্যদের বার করে আনা হয়। গোটা অভিযান সম্পন্ন হয় ভোরের আলো ফোটার আগেই। অন্য একটি সূত্রে অবশ্য দাবি, শেষ মুহূর্তে ইরানের সেনা তাদের ভূমিতে মার্কিন উপস্থিতি টের পেয়ে গিয়েছিল। গুলির লড়াইও শুরু হয়েছিল। তবে পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা গিয়েছে। মার্কিন আধিকারিকেরা এ বিষয়ে প্রথম থেকে নিশ্চুপ ছিলেন। এমনকি, মুখ খোলেননি ট্রাম্পও। উদ্ধার অভিযান সফল হওয়ার খবর পেয়ে সমাজমাধ্যমে তিনি পোস্ট করেন।

US Fighter Jets US Israel vs Iran West Asia Rescue Operation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy