যুদ্ধে ইতি টানতে পারস্পরিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা এবং ইরান। পশ্চিম এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতাকারীরাও ওই আলোচনায় শামিল হয়েছেন। আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং স্থানীয় স্তরের বেশ কয়েকটি সূত্র উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদনটি তুলে ধরে জানিয়েছে, এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু বলতে চায়নি হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন বিদেশ দফতর।
‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, দুই ধাপে যুদ্ধে লাগাম পরাতে চাইছে যুযুধান দুই পক্ষ। প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের জন্য সংঘাত স্থগিত রাখা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ৪৫ দিনের সংঘর্ষবিরতি সফল হলে দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা চলতে থাকলে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়তে পারে।
রবিবারই ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে ইরানকে বোঝাপড়ায় আসতে বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ়’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ওরা যদি দ্রুত বোঝাপড়ায় না-আসে, তা হলে আমি সব উড়িয়ে দেব আর তেলের দখল নেব।” হরমুজ় প্রণালীর অবরোধ তোলার জন্যও মঙ্গলবার রাত ৮টা (মার্কিন সময় অনুযায়ী) পর্যন্ত ইরানকে সময় দিয়েছেন ট্রাম্প। অবরোধ না-তুললে ইরানকে নরকে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
ইরান অবশ্য ট্রাম্পের এই হুমকিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। সে দেশের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমান্ডের জেনারেল আলিয়াবাদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করে বলেন, “এই হুমকি থেকেই স্পষ্ট যে, উনি অসহায়, ভীত, ভারসাম্যহীন এবং বোকা।” এই পরিস্থিতিতে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনার দরজা কতটা খুলবে, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই।