Advertisement
E-Paper

মাদুরোকে ধরতে ‘রহস্যময়’ অস্ত্র প্রয়োগ! ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান নিয়ে আবার মুখ খুললেন ট্রাম্প, কোন অস্ত্র ছিল?

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে মার্কিন সেনা। সেই অভিযানের পরই মাদুরোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সেনাকর্মী ‘রহস্যময়’ অস্ত্রের বিষয়টি দাবি করেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪০
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ফাইল চিত্র।

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ফাইল চিত্র।

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরার জন্য মার্কিন সেনা যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, সেই অভিযানে ‘রহস্যময়’ অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেখানে আমেরিকার সামরিক অভিযানের পর থেকেই সেই অস্ত্র নিয়ে জল্পনা, আলোচনা চলছিল আন্তর্জাতিক মহলে। প্রশ্ন ঘুরছিল, মার্কিন সেনা কী ধরনের অস্ত্র প্রয়োগ করল এই অভিযানে? কারণ, খুব অল্প সময়ের মধ্যে মাত্র কয়েক জন মার্কিন সেনা মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছিল।

তবে ‘রহস্যময়’ অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়টিকে আরও উস্কে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নিরাপত্তাতেই থাকা এক সেনা। সামরিক অভিযানের পর থেকেই সেই অস্ত্র নিয়ে চর্চা চলছে। অবশেষে এই অভিযান এবং ‘রহস্যময়’ অস্ত্র নিয়ে মুখ খুললেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কার্যত একেবারে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি যে, ভেনেজ়ুয়েলার সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনা গোপন অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল। একইসঙ্গে ট্রাম্প এটাও দাবি করেছেন, এই অস্ত্র এবং এই সামরিক প্রযুক্তি আর কোনও দেশের কাছে নেই। ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউজ নেশন-এর ক্যাটি পাভলিচের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমেরিকা যে অস্ত্র প্রয়োগ করেছে, এটির সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না।’’ এর পরই ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার সামরিক অভিযানকে ‘দুর্দান্ত এবং অভূতপূর্ব আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

কী সেই অস্ত্র? সেই প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বললেও, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ‘সোনিক ওয়েপন’ ব্যবহার করেছিল মার্কিন সেনা। ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যে অস্ত্রের কথা তিনি বলছেন, সেই অস্ত্রের বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত? তখন তিনি জবাব দেন, ‘‘আসলে এই অস্ত্র সম্পর্কে কেউ জানুক, এটা চাই না। আমার মনে হয়, এটা নিয়ে বেশি কথা না বলাই ভাল। তবে আমাদের হাতে যে এ রকম একটা অস্ত্র আছে, এটা বলতে পারি।’’

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে আসে মার্কিন সেনা। সেই অভিযানের পরই মাদুরোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সেনাকর্মী ‘রহস্যময়’ অস্ত্র প্রয়োগের বিষয়টি দাবি করেন। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। এক সাক্ষাৎকারে ওই সেনাকর্মী বলেন, ‘‘সামরিক অভিযান হওয়ার আগে পর্যন্ত কিছু টের পাওয়া যায়নি। কোনও আঁচ পর্যন্ত পায়নি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় থাকা বাহিনী। সব কিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ আমাদের রেডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যায়। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না, কী হচ্ছে।’’ ওই সেনাকর্মী জানান, আচমকাই প্রেসিডেন্টের সেফ হাউসের আশপাশে একটি, দু’টি ড্রোন উড়তে দেখা গেল। তখনও বোঝা যায়নি পর মুহূর্তে কী ঘটতে চলেছে। তাঁর কথায়, ‘‘কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেখলাম এক ঝাঁক ড্রোন উড়ে আসছে প্রেসিডেন্টের সেফ হাউসের দিকে। তার পরই ৮-১০টি হেলিকপ্টার দেখা গেল। সেই কপ্টারগুলি থেকে ২০ জন মতো নেমে এলেন। আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত। তার পরই রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল প্রেসিডেন্টের সেফ হাউস।’’

তিনি আরও দাবি করেন, কিছু ক্ষণ পরই জোরালো একটি আওয়াজ শোনা যায়। এতটাই জোরালো যে, মনে হচ্ছিল মাথা ফেটে যাবে। তার পরই নাক থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে। কারও কারও রক্তবমি শুরু হয়। তার পরই এক এক করে মাটিতে পড়ে যেতে থাকেন মাদুরোর নিরাপত্তায় থাকা সেনাকর্মীরা।

US Venezuela Crisis
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy