আমেরিকা শুল্কনীতিকে অর্থনীতির ‘অস্ত্র’ হিসাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে চিন। এ বার বেজিংকে পাল্টা বিঁধলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। সমাজমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা আর ‘বোবা অসহায় চাবকানোর খুঁটি’ হয়ে থাকবে না। গত বুধবার ট্রাম্প যে দেশগুলির পণ্যের উপর নয়া শুল্কনীতি ঘোষণা করেছেন, সেই তালিকায় রয়েছে চিনও। আমেরিকার বাজারে চিনা পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ৩৪ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছেন তিনি। পাল্টা মার্কিন পণ্যের উপর ৩৪ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিনও।
আমেরিকা এবং চিনের শুল্কযুদ্ধের মাঝে দু’দেশ থেকেই প্রতিক্রিয়া এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। শুক্রবারই ট্রাম্প কড়া বার্তা দিয়েছেন। মার্কিন পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে চিন ‘ভুল করল’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আবার বেজিংও দাবি করেছে, পণ্যের উপর শুল্ককে অর্থনৈতিক ‘অস্ত্র’ হিসাবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। শুল্কযুদ্ধ ঘিরে এই উত্তেজনার মাঝে শনিবার সন্ধ্যায় (ভারতীয় সময় অনুসারে) ট্রাম্প নিজের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমেরিকার চেয়েও বেশি ধাক্কা খেয়েছে চিন, ধারেকাছেও নেই। চিন এবং আরও অনেক দেশ আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। আমরা বোবা এবং অসহায় চাবকানোর খুঁটি হয়ে থেকেছি, কিন্তু আর নয়।”
ট্রাম্পের দাবি, তিনি আমেরিকায় বাণিজ্যের হাল ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। আমেরিকাতে এক অর্থনৈতিক বিপ্লব চলছে। এই বিপ্লবে আমেরিকা সফল হবে বলে প্রত্যয়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “এটি সহজ হবে না, কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল হবে ঐতিহাসিক।” সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, শনিবারই চিনা বিদেশ মন্ত্রক আমেরিকার শুল্কনীতিকে ‘অর্থনীতির অস্ত্র’ বলে নিশানা করেছে। চিনের অর্থনীতি এবং বাণিজ্যকে আমেরিকা শুল্কের মাধ্যমে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ বেজিংয়ের। আমেরিকা যাতে এই সংঘাতের পথ থেকে সরে যায়, সেই ‘অনুরোধ’ও করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেই বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে শুল্কযুদ্ধে নেমেছেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় এসেই তিনি ঘোষণা করেন, যে দেশ মার্কিন পণ্যের উপর যত পরিমাণ শুল্ক নেয়, আমেরিকাও সেই দেশের পণ্যের উপর তত পরিমাণ আমদানি শুল্ক আরোপ করবে! সেই মতো গত বুধবার বিভিন্ন দেশের উপর বিভিন্ন পরিমাণ শুল্ক আরোপ করে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি অনুসারে, আমেরিকার বাজারে আমদানি করা চিনা পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি ৩৪ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে। আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত যে ভাল ভাবে নেয়নি তা শুক্রবার বুঝিয়ে দিয়েছে বেজিং। তারাও মার্কিন পণ্যের উপর সমহারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২ ফেব্রুয়ারি নিজেই সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের উপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন তিনি।
- ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীই তাঁকে শুল্ক সমঝোতার জন্য অনুরোধ করেন বলে জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, আমেরিকার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কিনবে ভারত।
-
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি সার! ১৫ নয়, ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কই ধার্য করল মার্কিন সরকারি এজেন্সি, মঙ্গলবার থেকেই হল কার্যকর
-
১০ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
-
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য-সমঝোতায় বদল নেই, নিজের দেশের সুপ্রিম রায়ে ‘হতাশ’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
-
কোর্ট বেআইনি বলায় কি শুল্কের টাকা ফেরত দিতে হবে? ১০% নতুন শুল্ক আরোপ করে ঘুরপথে আয়ের ভাবনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের!
-
কবে থেকে কমছে ২৫% শুল্ক? জানাল আমেরিকা! রুশ তেল নিয়ে সিদ্ধান্ত দেশীয় সংস্থাগুলির দিকে ঠেলল মোদী সরকার