Advertisement
E-Paper

ফের বন্ধ হচ্ছে হরমুজ়! ইরানের পর এ বার অবরোধ শুরু করল আমেরিকা, প্রত্যেক জাহাজকে আটকানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি সমঝোতার জন্য শনিবার পাকিস্তানে বৈঠকে বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরে ভেস্তে গিয়েছে ইসলামাবাদ বৈঠক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৮
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

এ বার হরমুজ় প্রণালী ‘অবরুদ্ধ’ করা শুরু করল আমেরিকা। রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ‘অবরোধ’ শুরুর কথা ঘোষণা করেছেন। জানিয়েছেন, হরমুজ়ে প্রবেশ বা সেখান থেকে বেরোনোর চেষ্টা করা সকল জাহাজকে আটকে দেবে মার্কিন নৌসেনা। তিনি অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য বলেছেন মার্কিন নৌবাহিনীকে।

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি সমঝোতার জন্য শনিবার পাকিস্তানে বৈঠকে বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরে ভেস্তে গিয়েছে ইসলামাবাদ বৈঠক। তার পরেই ট্রাম্পের এই হরমুজ় অবরোধের ঘোষণায় নতুন করে উদ্বেগ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, “আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা যে জাহাজগুলি ইরানকে কোনও ধরনের ‘শুল্ক’ বা অর্থ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বার করে আটক করতে হবে। আমি এই নির্দেশ দিয়েছি মার্কিন নৌবাহিনীকে। যারা অবৈধ ভাবে টোল দেবে, তারা আর নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, সমুদ্রপথে কোথাও হয়তো কোনও মাইন রাখা আছে— শুধু এই ‘অজুহাত’ দেখিয়ে ইরান হরমুজ় জলপথের ‘দখল’ ধরে রেখেছে। কারণ ট্রাম্পের মতে, ওই মাইন কোথায় পাতা আছে, তা ইরান ছাড়া আর কেউ জানে না। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, “হরমুজ প্রণালীতে ইরান যে মাইনগুলি পেতে রেখেছে, আমরা সেগুলি ধ্বংস করার কাজ শুরু করব। ইরান আমাদের লক্ষ্য করে বা কোনও শান্তিপূর্ণ জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে, আমরা ওদের একেবারে ‘উড়িয়ে ছাই’ করে দেব!” হরমুজ়ে অবরোধের কথা ঘোষণা করার পাশাপাশি ট্রাম্প এ-ও জানিয়েছেন, “একপর্যায়ে আমরা হয়তো এমন একটি জায়গায় পৌঁছে যাব, যেখানে সকলকে প্রবেশের এবং বার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।”

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে হরমুজ় প্রণালীকে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ইরান। পরে কিছু বন্ধুরাষ্ট্রের জাহাজকে হরমুজ় অতিক্রম করতে দিয়েছে ইরান। তালিকায় ভারতমুখী জাহাজও রয়েছে। তবে ট্রাম্পের সন্দেহ, ইরান হরমুজ় প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাইছে। আন্তর্জাতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলি থেকে ইরান ‘বেআইনি ভাবে অর্থ নিচ্ছে’ বলে অভিযোগ আমেরিকার। ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরে সেই অভিযোগই ফের উস্কে দিলেন ট্রাম্প।

প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে ইসলামাবাদে বৈঠক হয়েছে আমেরিকা এবং ইরানের। আপাতত দু’দেশের মধ্যে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলছে। এরই মধ্যে শনিবার ইসলামাবাদে মুখোমুখি বসে আমরিকা-ইরান। শান্তি সমঝোতার পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প এই বৈঠকে পাঠিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ওই বৈঠক ভেস্তে যায়।

শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ার পরে ভান্স দাবি করেন, ইরান তাঁদের সঙ্গে ঠিক মতো সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি। সেই কারণেই বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পুরো দায় তেহরানের উপরই ঠেলেছে আমেরিকা। শুধু তা-ই নয়, ইরানের ‘অনমনীয়’ মনোভাবেরও সমালোচনা করা হয়েছে আমেরিকার তরফে।

তবে ইরান অন্য দাবি করছে। তাদের পাল্টা দাবি, আমেরিকা এমন কিছু ‘অযৌক্তিক দাবি’ করছিল যেগুলি দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে, দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ইসলামাবাদের শান্তিবৈঠক কী কারণে ভেস্তে গেল, তা নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেন, তেহরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। তাঁর কথায়, “ইরানের প্রতিনিধিদল ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু (আলোচনার) উল্টো দিকে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা ইরানের প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়‌েছেন।”

দুই দেশকে মুখোমুখি বসানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। শনিবারের বৈঠক ভেস্তে যাওয়া নিয়ে মুখ খুলেছে তারাও। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাবে। রবিবার পাক উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার বলেন, “আগামী দিনেও ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা এবং বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে যাবে পাকিস্তান।”

Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy