Advertisement
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
European union

ইইউ-এর ২৭ দেশে শুরু হল টিকাকরণ

করোনাভাইরাসই শেষ অতিমারি নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যপ্রাণী হত্যা— এ সব না রুখলে মানুষের স্বাস্থ্যসঙ্কট কাটবে না। 

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ ০৪:৩৮
Share: Save:

করোনা-অতিমারি মানুষে মানুষে ‘দূরত্ব’ বাড়িয়েছে। সংক্রমণ রুখতে এই পারস্পরিক দূরত্ব আবশ্যিক। কিন্তু দূরে থাকলেও যে একতা রয়েছে, সেই বার্তা দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জানাল, তাদের সদস্য ২৭টি দেশে সমন্বয় রেখে ফাইজ়ার-বায়োএনটেক কোভিড টিকা দেওয়া শুরু করা হচ্ছে আজ।

Advertisement

সম্প্রতি ইইউ-এর প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন জানিয়েছিলেন, ২৭ ডিসেম্বর থেকে টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে সদস্য দেশগুলিতে। আজ তিনি জানিয়েছেন, গত কালের মধ্যে সব দেশে ফাইজ়ার-বায়োএনটেক কোভিড ভ্যাকসিন পৌঁছে গিয়েছে। কিছু দেশ অপেক্ষা না-করে কাল থেকেই টিকা দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। যেমন, জার্মানি, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া। জার্মানিতে প্রথম টিকা দেওয়া হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা ১০১ বছরের এক বৃদ্ধাকে। বাকি দেশগুলি আজ শুরু করছে। ইইউ প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘ইউরোপের একতাবোধের স্মরণীয় মুহূর্ত।’’ অনেকে মনে করছেন, ব্রিটেনের ইইউ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে উরসুলার এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

ইইউ-এর ২৭টি দেশে ৪৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের বাস। ‘ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি’ (ইএমএ) এবং ‘দ্য ইউরোপিয়ান কমিশন’ ছাড়পত্র দিতেই টিকাকরণ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। ইতিমধ্যেই টিকাপ্রস্তুতকারী একাধিক সংস্থার থেকে ২০০ কোটিরও বেশি ডোজ় কেনার চুক্তি সেরে রেখেছে তারা। সাড়ে ৪৪ কোটি জনসংখ্যার জন্য যা প্রয়োজনের থেকেও বেশি। গত কাল ইইউ-এর প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন টুইট করেন, ‘একটা কঠিন বছরের পাতা উল্টোচ্ছি আজ। সব দেশে কোভিড ভ্যাকসিন পাঠানো হয়ে গিয়েছে। কাল থেকে টিকাকরণ শুরু হবে। একতাবোধের স্মরণীয় মুহূর্ত। এই অতিমারি থেকে বেরোনোর একমাত্র পথ টিকাকরণ।’

এ বছর ইইউ-এর প্রেসিডেন্ট দেশ জার্মানি। সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেন্স স্প্যান বলেন, ‘‘বড়দিনের সবচেয়ে বড় সুখবর। অতিমারিকে পরাস্ত করতে ভ্যাকসিন হল আসল চাবিকাঠি। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একমাত্র রাস্তা।’’ ইটালির বিদেশমন্ত্রী সবাইকে টিকা নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এ ভাবেই আমরা স্বাধীনতা ফিরে পাব। ফের একে অপরের কাছে আসতে পারব।’’

Advertisement

এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত দেশগুলিতে। সংক্রমিত ১ কোটি ৪০ লক্ষের বেশি। বেশির ভাগ দেশেই লকডাউন চলছে। এ বছর উৎসবের মরসুমটা বাড়িতেই কাটাতে অনুরোধ করা হচ্ছে লোকজনকে। তার মধ্যে অতি-সংক্রামক ‘ব্রিটেন-স্ট্রেন’ আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ব্রিটেনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেছে সব দেশ। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ইউরোপের অন্তত আটটি দেশে ‘ব্রিটেন-স্ট্রেন’ ধরা পড়েছে। এ ছাড়া কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, লেবানন ও জাপানেও ওই স্ট্রেনটি মিলেছে। মন্দের ভাল এই যে স্ট্রেনটির সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি হলেও মারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির খবর নেই। এই স্ট্রেনে আক্রান্তদের অনেককে উপসর্গহীনও ধরা পড়েছে।

গত কয়েক মাসে জাপানে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শনিবার থেকে সাময়িক ভাবে দেশে বিদেশি নাগরিক প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একমাত্র যে সমস্ত বিদেশি জাপানের বাসিন্দা, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে। জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত এই কড়াকড়ি চলবে।

কানাডাতে এক দম্পতির দেহে ব্রিটেন-স্ট্রেন ধরা পড়েছে। উত্তর আমেরিকায় এই দেশেই প্রথম স্ট্রেনটি ধরা পড়ল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, ওই দম্পতি সম্প্রতি বিদেশে যাননি। ফলে তাঁরা দেশেই অন্য কারও থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলা ধরা হচ্ছে।

নতুন স্ট্রেন নিয়ে যখন ভয় বাড়ছে, সে অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আজ জানিয়েছে, করোনাভাইরাসই শেষ অতিমারি নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যপ্রাণী হত্যা— এ সব না রুখলে মানুষের স্বাস্থ্যসঙ্কট কাটবে না।

আজ, রবিবার বিশ্বের প্রথম ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব এপিডেমিক’ পালন করেছে হু। সেখানেই সংস্থার প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস রাষ্ট্রশক্তিগুলোর সমালোচনা করে বলেন, ‘‘স্রেফ অর্থ ঢেলে কাজ সেরে ফেলা বিপজ্জনক অদূরদর্শিতা। পরবর্তী অতিমারির জন্য তৈরি থাকতে হবে। করোনা-পরিস্থিতি আমাদের শেখার সময় দিচ্ছে।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.