Advertisement
E-Paper

সেনা গুলি চালাচ্ছে, পাল্টা দিচ্ছে জঙ্গিরাও

মুম্বই ফিরবেন বলে বিমান ধরার তাড়া ছিল। হোটেল থেকে বেরোনোর তোড়জোড় শুরু করেছিলেন মনোজ সামন্তরায়। ঘড়ির কাঁটা তখন এগারোটা ছুঁইছুঁই। হোটেলের লবিতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মনোজ। হঠাৎ একটা বিকট আওয়াজে কেঁপে উঠল চারপাশ।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:০৩
বিস্ফোরণে উড়েছে পুলিশ কিয়স্ক। রাস্তায় চাপ চাপ রক্ত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আহত এক পুলিশ কর্মীকে। বৃহস্পতিবার জাকার্তার তামরিন স্ট্রিটে। ছবি: এএফপি।

বিস্ফোরণে উড়েছে পুলিশ কিয়স্ক। রাস্তায় চাপ চাপ রক্ত। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আহত এক পুলিশ কর্মীকে। বৃহস্পতিবার জাকার্তার তামরিন স্ট্রিটে। ছবি: এএফপি।

মুম্বই ফিরবেন বলে বিমান ধরার তাড়া ছিল। হোটেল থেকে বেরোনোর তোড়জোড় শুরু করেছিলেন মনোজ সামন্তরায়। ঘড়ির কাঁটা তখন এগারোটা ছুঁইছুঁই। হোটেলের লবিতেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মনোজ। হঠাৎ একটা বিকট আওয়াজে কেঁপে উঠল চারপাশ। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু হয়ে গেল। মনোজ ভেবেছিলেন, বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে হোটেলের কাছে। হোটেলের জানলার কাচগুলো ঝনঝন শব্দে কেঁপে উঠেছিল। একটু পরেই জানা গেল, দুর্ঘটনা নয়। বিস্ফোরণ।

মুম্বইয়ের ভূতত্ত্ববিদ মনোজ দিন কয়েক আগে ব্যবসার কাজে জাকার্তা এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ওই একই হোটেলে ছিলেন আরও চার ভারতীয়। এঁরা সকলেই সুরক্ষিত আছেন। কিন্তু আজ যে মার্কিন ক্যাফেটিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা, এই হোটেলটি তার খুব কাছেই। আজ স্থানীয় সময় আড়াইটে নাগাদ মুম্বই ফেরার বিমান ছিল মনোজের। কিন্তু বেলা এগারোটা নাগাদ হোটেল থেকে চেক আউট করার সময়ই তিনি বিস্ফোরণের শব্দ পান। মনোজের কথায়, ‘‘বিষয়টা বুঝে ওঠার আগেই হোটেল কর্মীরা আমাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যান। কিছু ক্ষণের মধ্যেই গোটা হোটেল ঘিরে ফেলে পুলিশ আর সেনা। অনেকে বলাবলি করছিলেন যে আমাদের হোটেলে কোনও জঙ্গি হয়তো ঢুকে পড়েছে। তাকে নিকেশ করতেই তৎপরতা। হোটেলের প্রত্যেকটা ঘরে ঢুকে ঢুকে তল্লাশি করেছে পুলিশ।’’ তবে ওই হোটেলে সত্যিই কোনও জঙ্গি লুকিয়েছিল কি না, তা অবশ্য রাত পর্যন্ত পরিষ্কার নয়।

সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই নিজের চোখে দেখেছেন মনোজ। বলেছেন, ‘‘হোটেলের চার তলার ঘরের জানলা থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল সব। বিস্ফোরণের পরে কয়েকজন জঙ্গির দেহ রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আসছিল ক্যাফে থেকে। সেনার গুলির জবাবে পাল্টা গুলি চালাচ্ছিল জঙ্গিরাও। ভয়াবহ পরিস্থিতি। বিকেলের দিকে প্রশাসন জানায়, শেষ হয়েছে জঙ্গি নিধন অভিযান। হাঁপ ছেড়ে বাঁচি আমরা।’’

বিস্ফোরণের অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন ওই হোটেলের আর এক অতিথি এম ফারুকি-ও। পোস্ট করেছেন কয়েকটা ছবিও। মনোজের মতো ফারুকিও মুম্বইয়ের বাসিন্দা। লিখেছেন, ‘‘প্রাতরাশ সারছিলাম তখন। একটা ভয়ানক আওয়াজ। তার পর ছোটাছুটি। হোটেল ম্যানেজার সঙ্গে সঙ্গে ঘরটা খালি করতে বললেন। সেনা-পুলিশে চারদিক ছেয়ে গিয়েছে। আমাদের হোটেলের খুব কাছেই একটা বিস্ফোরণ হয়েছে। তাই কোথাও বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy