Advertisement
E-Paper

ইজ়রায়েলের পরমাণু কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র, জল শোধনাগারেও হামলার হুঁশিয়ারি! ট্রাম্প হুমকি দিতেই আরও আগ্রাসী ইরান

সম্প্রতি ট্রাম্প হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ় প্রণালী না খুলে দেয়, তা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। আর তার পরই পাল্টা হুমকি দেয় ইরান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ২২:১৩
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পরেও দমার লক্ষণ নেই, বরং আরও আগ্রাসী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান। শনিবার তারা ইজ়রায়েলের ডিমোনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এই শহরেই রয়েছে ইজ়রায়েলের বৃহত্তম পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। শনিবারই ইরানের নাতান্‌জ় পরমাণু কেন্দ্রকে নিশানা বানিয়েছিল ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। মনে করা হচ্ছে সেই হামলার ‘বদলা’ নিতেই ইজ়রায়েলের ডিমোনা শহরে শমিন পেরেজ় নেগেভ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।

ইরানের হামলায় শতাধিক আহত হয়েছেন বলে ইজ়রায়েলের সাংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হয়েছে। ওই সংবাদমাধ্যগুলিতে আরও বলা হয়েছে যে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র একটি কমিউনিটি ভবনে আছড়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ওই এলাকার অধিকাংশ লোকজনই সময়মতো ‘বম্ব শেল্টার’-এ আশ্রয় নেওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এই হামলায় একশোরও বেশি স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ইজ়রায়েলেকর এই ডিমোনা শহরেই প্রচুর ভারতীয় থাকেন। যে কারণে এই ডিমোনা শহরকে ‘লিটল ইন্ডিয়া’ও বলা হয়। তবে কোনও ভারতীয় আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প ইরান প্রশ্নে আগ্রাসী নীতি নিয়ে চলার ইঙ্গিত দিলেও কার্যক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হয়েছে। পাল্টা আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে তেহরানও। সম্প্রতি ট্রাম্প হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ় প্রণালী না খুলে দেয়, তা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। আর তার পরই পাল্টা হুমকি দেয় ইরান। তেহরানের তরফে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার ঘনিষ্ঠ দেশগুলিতেও হামলা আরও জোরালো করা হবে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে আমেরিকা পরিচালিত বহু তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, তৈল শোধনাগার এবং পানীয় জল পরিশোধন সংস্থাও রয়েছে। এ বার সেগুলিকেও নিশানা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

শনিবার ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ মার্কিন ঘাঁটি দিয়েগো গ্রাসিয়াকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। একটি নয়, পর পর দু’টি! এর আগে এত দূরের লক্ষ্যে কখনও নিশানা করেনি তেহরান। অনেকের মতে, দিয়েগো গ্রাসিয়াকে যদি ইরান নিশানা করতে পারে, তাদের আক্রমণের নাগালে চলে আসতে বাধ্য লন্ডন কিংবা প্যারিসের মতো শহরও। এমনকি, সে ক্ষেত্রে ইউরোপের অধিকাংশই ইরানের আক্রমণের পরিধিতে চলে আসবে। যে কোনও মুহূর্তে কোনও ছোট বা বড় শহরের উপর এসে পড়তে পারে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র। হতে পারে বহু মৃত্যু! ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অভিযানকে সমর্থন করার ক্ষেত্রেও তাই এখন বার বার ভাবতে হবে ইউরোপীয় দেশগুলিকে। সব মিলিয়ে অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধের রাশ ক্রমশ হাতছাড়া হচ্ছে ট্রাম্পের।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ট্রাম্প রবিবার জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করে দিতে চলেছেন। হরমুজ় প্রণালী খুলে না দিলে ইরানে নতুন করে অভিযান শুরু করবে আমেরিকা। তার নিশানায় থাকবে দেশটির ছোট-বড় সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর জন্য তেহরানকে সময়ও বেঁধে দেন ট্রাম্প। রবিবার সকালে (ভারতীয় সময়) সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি, কোনও হুমকি ছাড়া খুলে না দেয়, আমেরিকা তাদের ফের আঘাত করবে এবং বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করে দেবে। আঘাত শুরু হবে ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে দিয়ে।’’ এই পোস্টের মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হবে বলে জানিয়ে দেন তিনি।

পাল্টা হুমকি ইরানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুরমুজ় প্রণালী নিয়ে হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দাগে তেহরান। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে আমেরিকা পরিচালিত বহু তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, তৈল শোধনাগার এবং পানীয় জল পরিশোধন সংস্থাও রয়েছে। এ বার সেগুলিকেও নিশানা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। হজরত খাতম আল আনবিয়া-র সদর দফতরের মুখপাত্র বলেন, ‘‘আমেরিকা যদি ইরানের শক্তি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালায়, আমরাও চুপ করে বসে থাকব না। পশ্চিম এশিয়ায় ওদের যত তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, শক্তিকেন্দ্র, পানীয় জল শোধনকেন্দ্র আছে সেগুলিকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।’’

শত্রুদের ছাড় নয়!

হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা দূর করতে আগ্রহী ইরান। রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীনস্থ আন্তর্জাতিক জলপথ সংস্থা (আইএমও)-র সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতাও করতে চায় তারা। বাকিদের জন্য জলপথ খুলে দিতে আগ্রহী হলেও আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে এই ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান। ইতিমধ্যে ভারত, চিন, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপানের জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পার করার ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে ইরান। দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স এবং ইতালিও ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

ইরানে সতর্ক ইউরোপ

শনিবার চার হাজার কিলোমিটার দূরে সুদূর ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ মার্কিন ঘাঁটি দিয়েগো গ্রাসিয়াকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। অনেকের মতে, দিয়েগো গ্রাসিয়াকে যদি ইরান নিশানা করতে পারে, তাদের আক্রমণের নাগালে চলে আসতে বাধ্য লন্ডন কিংবা প্যারিসের মতো শহর। আমেরিকা, ইজ়রায়েলের ধারণা ছিল, ইরান সর্বোচ্চ দু’হাজার কিলোমিটার দূরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও গত মাসে আক্রমণের এই সীমারেখা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু শনিবারের হামলার পর সেই স্বীকারোক্তিকে ভুয়ো বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ, তলে তলে সামরিক শক্তি, ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা অনেকটা বাড়িয়ে ফেলেছে তেহরান। এত দিন তা গোপনে রাখা হয়েছিল। মার্কিন-ইজ়রায়েলি আগ্রাসনের মুখে এ বার তা ‘খোলস’ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে।

US Iran Donald Trump israel
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy