বাতাক্লাঁ কনসার্ট হলের কিছু দূরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছে ছোট ছেলে ব্রাহিম আবদেসলাম। দ্বিতীয় ছেলে মহমম্দ আবদেসলাম এখন বেলজিয়াম পুলিশের হেফাজতে। বড় ছেলে সালাহের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চলছে দেশ-বিদেশে। শুক্রবার রাতের প্যারিস হামলার পর এখন ফরাসি পুলিশের মুখে মুখে ঘুরছে এই তিনটি নাম।
কেন এমন হত্যালীলায় জড়াল তিন-তিনটি সন্তান? তিন দিন পরেও তার উত্তর হাতড়ে বেড়াচ্ছেন মা। এখনও তাঁর বিশ্বাস, ব্রাহিম অন্তত নিরীহ মানুষ মারার কাজ করতেই পারে না। হয়তো অবসাদ থেকেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে সে। মানসিক চাপই হয়তো খেপিয়ে তোলে তাকে। পরিবারের বাকিরাও এ রকমই ভাবতে চাইছেন।
শুক্রবার রাতে যখন তিনটি দলে ভাগ হয়ে প্যারিসের একাধিক জায়গা ঘিরে ফেলেছে বাকি জঙ্গিরা, তখন স্তাদ দো ফ্রঁস রেস্তোরাঁর বাইরে দাঁড়িয়ে ব্রাহিমও। নির্দেশ মতো কোমরে বাধা বিস্ফোরক বেল্টে চাপ দিয়ে মুহূর্তে নিজেকে উড়িয়ে দেয় সে। পরে গোয়েন্দারা শনাক্ত করেন দেহটি। জঙ্গি হামলার এক দিন বাদে পশ্চিম ব্রাসেলস থেকে গ্রেফতার হয় মহম্মদ আবদেসলাম। সালাহকে এখনও ধরতে পারেনি ফরাসি পুলিশ। প্যারিস হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সীমান্ত পেরনোর সময় এক বার তার পথ আটকেছিল বেলজিয়াম পুলিশ। পরে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
তখনও জানা যায়নি, এই সালাহ প্যারিস সন্ত্রাসের অন্যতম কারিগর।
ছেলেদের এই কাণ্ড কিছুতেই মন থেকে মানতে পারছেন না মা। বিশেষত ব্রাহিমকে কোনও ভাবেই খুনি ভাবতে পারছেন না তিনি। এখনও মনে হচ্ছে, কোনও কারণে অবসাদে ভুগছিল ব্রাহিম। কিন্তু কাউকে মারার কোনও পরিকল্পনা নিশ্চয় ছিল না তার। বেলজিয়ামে নিজের বাড়ির উঠোনে বসে বারবার ছোট ছেলের কথাই উঠে আসছিল মায়ের মুখে। বলছিলেন, ‘‘কাউকে হত্যার ছক কষতেই পারেনা ব্রাহিম। আমি নিশ্চিত। ও যেখানে বিস্ফোরণ ঘটায় সেখানে তো কেউ মারাও যায়নি। এটাই অনেক কিছু প্রমাণ করে।’’
পরিবারের বাকিরাও জানিয়েছেন, হামলার দু’দিন আগেও ব্রাহিমকে দেখেছেন তারা। কী ভয়ঙ্কর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে বাড়ির ছেলে, তার বিন্দুবিসর্গও আঁচ করতে পারেননি তখন। তবে তাঁরা কার করেছেন, সিরিয়াতে দীর্ঘদিন কাটিয়েছে ব্রাহিম। সেই সময় থেকেই উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকেছিল সে। মায়ের কথায়, ‘‘ব্রাহিম একটু অন্য রকম ছিল। ওর যে ধীরে ধীরে উগ্রপন্থায় আগ্রহ বাড়ছিল তা কিছুটা টেরওপাচ্ছিলাম। কিন্তু তার ফল যে এ রকম হবে ভাবতে পারিনি।’’
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ব্রাহিমই প্যারিস হানায় জঙ্গিদের ব্যবহৃত গাড়িটি ভাড়া করে। রেস্তোঁরার বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানোর কয়েক মিনিটের মধ্যে জঙ্গিদের অন্য একটি দল হামলা চালায় বাতাক্লাঁ কনসার্ট হলে।