প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে এনেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বিদেশি কায়দায় তাঁকে ‘প্রপোজ়’ করবেন। প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন প্রেমিক। খাটের সঙ্গে তাঁর হাত বাঁধেন। যখন কিরণ জিজ্ঞাসা করেন, কেন হাত বাঁধছেন, তখন প্রেমা জানান, তাঁর জন্য চমক আছে। প্রেমিকার কথা বিশ্বাস করে ফেলেন যুবক। তাঁর পা বাঁধেন কষে। চোখে কালো কাপড় বেঁধে দেন। তার পর তাঁর গায়ে পেট্রল ঢালেন। তত ক্ষণে যুবক বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন যে কী হতে চলেছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরিয়ে দেন তরুণী। আগুনে ঝলসে ছটফট করতে করতে মৃত্যু হয় যুবকের। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর। ইতিমধ্যেই তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তরুণীর নাম প্রেমা। আর যুবকের নাম কিরণ। দু’জনে একই সংস্থায় কাজ করতেন। সেখান থেকে আলাপ। তার পর প্রেম। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কিরণকে ‘প্রপোজ়’ করেন প্রেমা। কিন্তু কয়েক দিন যাওয়ার পর থেকেই প্রেমা বিয়ে করার জন্য কিরণকে চাপ দেওয়া শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ।
কিন্তু কিরণ তাঁকে জানিয়েছিলেন, এখনই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু প্রেমা ধৈর্য রাখতে পারছিলেন না। ফলে বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এর পর থেকে প্রেমার সঙ্গ দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন কিরণ। ফলে প্রেমার মধ্যে একটা সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। তাঁর সন্দেহ হয়, কিরণ তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করছেন। অন্য কোনও মেয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই তাঁকে এড়িয়ে চলছেন।
ঘটনাচক্রে, প্রেমার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার মাসখানেক আগেই প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেকআপ হয়েছিল কিরণের। সেটা জানতে পেরেছিলেন প্রেমা। ফলে তাঁর সঙ্গে যখন দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছিলেন কিরণ, প্রেমার সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, কিরণকে চার লক্ষ টাকার একটা বাইক কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেমা। কিরণের সেই বাইকপ্রেমকেই ফাঁদ হিসাবে কাজে লাগান প্রেমা। কিরণকে তিনি জানান, একটা চমক আছে। কিরণ ভেবেছিলেন হয়তো, বাইক কেনার জন্য তাঁকে ডাকছেন। ২১ এপ্রিল প্রেমার মা এবং দাদা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে কিরণকে ডাকেন তিনি। অভিযোগ, কিরণ বাড়িতে আসতেই তাঁকে শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখান প্রেমা। বিদেশি কায়দায় শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখানো হয়। আর তার পরই কিরণের হাত-পা বেঁধে দেন প্রেমা। তার পরই তাঁকে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়েরা ঘর থেকে আগুন এবং ধোঁয়া বার হতে দেখে ছুটে যান। তখন প্রেমা তাঁদের কাছে দাবি করেন, কিরণ আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কিরণের দেহ উদ্ধার করে। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় প্রেমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তখনই তিনি জেরায় ভেঙে পড়েন। তার পরই গ্রেফতার করা হয়েছে প্রেমাকে।