Advertisement
E-Paper

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হানা জঙ্গি আক্রমণই: এফবিআই

ছ’মাসের সন্তানকে তার ঠাকুরমার কাছে রেখে গিয়েছিল দু’জন। জানিয়েছিল, চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছে তারা। সান বার্নার্দিনোর রেডল্যান্ডসের বাসিন্দা রফিয়া ফারুক তখন টেরও পাননি তাঁরই ছেলে আর বৌমা কিছু ক্ষণের মধ্যে একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে অবলীলায় ১৪ জনকে মেরে ফেলবে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:১৭
ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্দিনোর ‘ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার’। এখানেই চলে হামলা। এএফপির তোলা ছবি।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্দিনোর ‘ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার’। এখানেই চলে হামলা। এএফপির তোলা ছবি।

ছ’মাসের সন্তানকে তার ঠাকুরমার কাছে রেখে গিয়েছিল দু’জন। জানিয়েছিল, চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছে তারা। সান বার্নার্দিনোর রেডল্যান্ডসের বাসিন্দা রফিয়া ফারুক তখন টেরও পাননি তাঁরই ছেলে আর বৌমা কিছু ক্ষণের মধ্যে একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে অবলীলায় ১৪ জনকে মেরে ফেলবে। সইদ রিজওয়ান ফারুক আর তার স্ত্রী তাশফিন মালিকের এই কাণ্ড ধন্দে ফেলেছে এফবিআইয়ের দুঁদে গোয়েন্দাদেরও। তবে এই ঘটনা যে জঙ্গি হামলা তা জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। আজ উঠে এসেছে আইএস যোগের একটি তত্ত্ব।

গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্দিনোর ‘ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টার’ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটা পার্টি চলাকালীন হামলা চালায় সস্ত্রীক ফারুক। সে নিজে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরই কর্মী। এই ঘটনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ২১। পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে ফারুক দম্পতিরও। কিন্তু তারা কেন এত বড় একটা হত্যালীলা চালাল, সেটাই এখন ভাবাচ্ছে গোয়েন্দাদের। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাই জানিয়েছিলেন, এই ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাস-যোগ একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আজও পুরোপুরি জঙ্গি হানা হিসেবেই ঘটনার তদন্ত শুরু করলেন গোয়েন্দারা।

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ফারুকদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে, তা দেখে তারা নিশ্চিত যে, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরে আরও হামলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল তারা। যে কালো এসইউভি চড়ে তারা পালিয়েছিল, সেটি গোটা এক দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে রেখেছিল ফারুক। ফলে পুলিশ মনে করছে, বুধবারই অন্য কোনও জায়গায় আরও বড় ধরনের নাশকতার ছক কষেছিল তারা। প্রথমে স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পরে ফারুকদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, বিস্ফোরক দেখে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, আল কায়দার মতো জঙ্গি গোষ্ঠী এই ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আল কায়দার সঙ্গে ফারুক বা তার স্ত্রীর কোনও সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ মেলেনি। একটি মার্কিন দৈনিক আবার জানিয়েছে, আইএসের প্রতি আনুগত্য ছিল তাশফিনের।

Advertisement

তাদের দাবি, আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদির সমর্থনে অনলাইনে বেশ কিছু পোস্টও করেছিল সে। আদতে পাকিস্তানের বাসিন্দা তাশফিনই যে তার স্বামীকে এই রাস্তায় এনেছে, সে বিষয়েও মোটামুটি নিশ্চিত পুলিশ। বিয়ের আগে ফারুক আর তাশফিনের সৌদি ভ্রমণ নিয়েও এখন তদন্ত করছে তারা।

তারা জানতে পেরেছে, বেশ কিছু কট্টরপন্থীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ফারুকের। কিন্তু খুব ঘনঘন তাদের সঙ্গে মেলামেশা করত না সে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী ফারুকের বাড়ি থেকে যে ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তার টাকার জোগান কোথা থেকে আসত, সে বিষয়েও এখন তদন্ত করছে পুলিশ। তাশফিন সম্পর্কে আরও জানতে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আমেরিকা। মুখচোরা ফারুক যে এত বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না তার প্রতিবেশী বা অফিসের সহকর্মীরা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy