বিজ্ঞান আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন কিছু জানা, বোঝা এবং উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ থেকেই গড়ে ওঠে সত্যিকারের বিজ্ঞানমনস্কতা। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে মেঘনাদ সাহা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমএসআইটি) তাদের রজত জয়ন্তী উপলক্ষে ৩০ মার্চ, ২০২৬ তারিখে (বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার পরীক্ষার কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে স্থগিত) আয়োজন করেছিল জাতীয় বিজ্ঞান দিবস।
‘বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ়’ বিভাগের উদ্যোগে এবং ‘ইনোভেশন কাউন্সিল ও গ্রিনোভেশন ক্লাব’-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে ভাবার আগ্রহ বাড়াতে প্রতিষ্ঠানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে।
দিনভর বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং কার্যক্রমে ক্যাম্পাস প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ বছরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মডেল/প্রোটোটাইপ প্রতিযোগিতা, যেখানে আটটি বিদ্যালয়ের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাদের সৃজনশীল এবং বাস্তবমুখী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এই প্রতিযোগিতায় ‘মহাদেবী বিড়লা শিশু বিহার’ প্রথম স্থান অর্জন করে, ‘দিল্লি পাবলিক স্কুল’ (রুবি পার্ক) দ্বিতীয় স্থান এবং ‘টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ পাবলিক স্কুল’, হুগলি তৃতীয় স্থান অধিকার করে। পাশাপাশি এমএসআইটি-এর শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ক্রিয়েটিভ ইমেজ প্রদর্শনীতে তাদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ও সৃজনশীলতার উৎকৃষ্ট প্রকাশ ঘটে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল দুই বিশিষ্ট অতিথির বক্তব্য। ‘আইআইএসইআর’ কলকাতার অধ্যাপক সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় “বিজ্ঞান কী ভাবে কাজ করে?” বিষয়ক বক্তৃতায় বিজ্ঞানের মূল দর্শন এবং পদ্ধতি সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে, এম. পি. বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক দেবীপ্রসাদ দুয়ারী “জ্যোতির্বিদ্যার ধারণা” শীর্ষক বক্তৃতায় মহাকাশ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিস্ময়কর দিকগুলি তুলে ধরে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন।
পুরস্কার বিতরণী এবং সংবর্ধনার পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মানিত করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বি. টেক প্রথম বর্ষের কৃতী শিক্ষার্থী এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টারে ৯৫% বা তার বেশি উপস্থিতি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদেরও বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মানস চন্দ তাঁর বক্তব্যে জানান, “এমএসআইটি-এ আমরা অনুসন্ধানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্যাপন তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এই সফল আয়োজনের জন্য বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ় বিভাগ প্রশংসার দাবিদার।”
বিভাগীয় প্রধান সুমিত সোম তাঁর সহকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি বিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এই অনুষ্ঠানকে আরও বৃহত্তর এবং সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পায়। শিক্ষার্থীরা এটিকে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক এবং জ্ঞানবর্ধক বলে অভিহিত করে। বিশেষ করে, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগটিকে তারা খুবই মূল্যবান বলে মনে করে। সার্বিকভাবে, এই আয়োজন এমএসআইটি-কে পড়াশোনা, নতুন ভাবনা এবং সমাজমুখী কর্মকাণ্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই প্রতিবেদনটি ‘মেঘনাদ সাহা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’-র সঙ্গে আনন্দবাজার ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।