কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে অষ্টম বেতন কমিশন। তাদের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে সংশোধিত মাস-মাইনে এবং পেনশন চালু করবে অর্থ মন্ত্রক। আর তাই কমিশনের কাছে বেতনবৃদ্ধির একাধিক আর্জি ইতিমধ্যেই জমা করেছে কয়েকটি কর্মচারী সংগঠন। সেখানে উচ্চ মূল বেতন (বেসিক পে), উন্নততর পেনশন সুরক্ষা এবং ভাতার উপর জোর দিতে দেখা গিয়েছে তাদের।
উল্লেখ্য, সরকার এবং কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে আলোচনার জন্য কেন্দ্রের একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। নাম, ন্যাশনাল কাউন্সিল (জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি) বা এনসি-জেসিএম। সম্প্রতি এর খসড়া কমিটি অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে জমা করেছে তাদের চূড়ান্ত স্মারকলিপি। এর উপর ভিত্তি করে কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্তদের সংশোধিত মূল বেতন এবং পেনশন কাঠামো ঠিক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
সূত্রের খবর, কমিশনের কাছে কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন (বেসিক পে) ৬৯,০০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে এনসি-জেসিএম। আর তাই স্মারকলিপিতে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ৩.৮৩ শতাংশ রাখার সুপারিশ খসড়া কমিটিকে করতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি, কোনও রকম বিলম্ব ছাড়া চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সংশোধিত বেতন চালু করার কথাও বলেছে তারা।
এনসি-জেসিএমের খসড়া কমিটির স্মারকলিপিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বছরে ছ’শতাংশ করে বেতনবৃদ্ধির সুপারিশ করেছে তারা। এটি বর্তমান হারের চেয়ে অনেকটাই বেশি। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এই ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ন্যাশনাল কাউন্সিল (জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি)।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনের তৈরি করা কাঠামোর ভিত্তিতে কর্মচারীদের মাস-মাইনে দেয় কেন্দ্র। এতে মোট ১৮টি স্তর রয়েছে, যা কমিয়ে সাতটি স্তরে নিয়ে আসার সুপারিশ করেছে এনসি-জেসিএমের খসড়া কমিটি। তাদের দাবি, এতে দ্রুত পদোন্নতির সুবিধা পাবেন কর্মচারীরা। হ্রাস পাবে স্থবিরতা।
পেনশনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কর্মচারী সংগঠনগুলির একটি দীর্ঘ দিনের দাবি রয়েছে। সেটা হল, ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারির পরে কাজে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য পুরোনো পেনশন ব্যবস্থা পুনর্বহাল করুক সরকার। খসড়া কমিটির স্মারকলিপিতে এর উল্লেখ আছে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর। সেখান সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৬৭ শতাংশ পেনশন এবং ৫০ শতাংশ পারিবারিক পেনশন নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩০ বছরের চাকরি জীবনে পাঁচটি পদোন্নতির দাবি জানিয়েছে এনসি-জেসিএমের খসড়া কমিটি। বাড়িভাড়ার ভাতা বদলের আবেদন জানিয়েছে তারা। দেশের মেট্রো শহরগুলিতে সেটা মূল বেতনের অন্তত ৩০ শতাংশ করার কথা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলির মধ্যে কতগুলি অষ্টম বেতন কমিশন মেনে নেয়, সেটাই এখন দেখার।