E-Paper

চিন্তায় লগ্নিকারী, নজর মূল্যবৃদ্ধি ও সুদের হারে

আমেরিকার শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারাল রিজ়ার্ভ গত সপ্তাহে সুদ আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। ফলে তা পৌঁছেছে ৫.৫০ শতাংশে। এই হার ২২ বছরে সর্বাধিক।

অমিতাভ গুহ সরকার

শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৩ ০৮:৫৭
An image of Market

—প্রতীকী চিত্র।

অনেকটা লম্বা দৌড়ের পরে গত সপ্তাহে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে শেয়ার বাজার। তার আগের সপ্তাহে টানা চার দিন নতুন নজির গড়েছিল সেনসেক্স ও নিফ্‌টি। কিন্তু সেখান থেকে নামার প্রধান দু’টি কারণ— আমেরিকা ও ইউরোপে ফের সুদ বৃদ্ধি এবং চড়ে থাকা দেশীয় বাজারে লগ্নিকারীদের লাভ ঘরে তোলার তাগিদ।

আমেরিকার শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারাল রিজ়ার্ভ গত সপ্তাহে সুদ আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। ফলে তা পৌঁছেছে ৫.৫০ শতাংশে। এই হার ২২ বছরে সর্বাধিক। একই পরিমাণ সুদ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কও। এই নিয়ে ইউরোপীয় অঞ্চলে সুদ টানা ন’বার বেড়ে ছুঁল ৪.২৫%।

এখন প্রশ্ন হল, ভারতে কী হবে?

আনাজ-সহ খাদ্যপণ্যের মাত্রাছাড়া দাম জুনে খুচরো মূল্যবৃদ্ধিকে ঠেলে তুলেছে ৪.৮১ শতাংশে। জুলাইয়ে তার আরও মাথা তোলার আশঙ্কা। এই অবস্থায় ৮-১০ অগস্টের বৈঠকে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি কমিটি সুদ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা-ই দেখার। ভারতে রেপো রেট (যে সুদের হারে আরবিআই ব্যাঙ্কগুলিকে ধার দেয়) দাঁড়িয়ে ৬.৫ শতাংশে। তা আরও বাড়লে শিল্পের জন্য সেটা শুভ হবে না। চাপ বাড়বে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদেরও। ফলে লগ্নি ও চাহিদা আরও ধাক্কা খেতে পারে। যা জিডিপি নিয়ে উদ্বেগ
বাড়াবে। আরও চড়তে পারে বেকারত্ব।

জুলাইয়ের মূল্যবৃদ্ধি জানা যাবে ১২ অগস্ট। অর্থাৎ শীর্ষ ব্যাঙ্কের
বৈঠকের পরে। এ বার খামখেয়ালি আবহাওয়ার কারণে কৃষিকাজে ভাল রকম ক্ষতির আশঙ্কা। শেষ পাওয়া রিপোর্টে ভারতে ৭% অধিক বৃষ্টিপাত দেখালেও, গোটা দেশ সমান বর্ষা পায়নি। উত্তর ও পশ্চিম ভারতে ৩৬% অধিক বৃষ্টি বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বন্যায় ভাসাচ্ছে। মধ্য ও দক্ষিণে বৃষ্টিপাত হয়েছে যথাক্রমে ১৪% ও ৯% বেশি। কিন্তু তার দেখা মেলেনি পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে। দেশের এই অংশে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ২৫%। সুষম বর্ষা না হওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।

বেশ কিছু নামী সংস্থার ত্রৈমাসিক ফল প্রকাশ হয়েছে গত সপ্তাহে। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম কম থাকার সুবাদে এপ্রিল-জুনে ভারত পেট্রোলিয়ামের নিট মুনাফা হয়েছে ১০,৬৬৪ কোটি টাকা। আগের বছরের চেয়ে ৪৫১৬ কোটি বেশি। গত বছর ১৯৯২ কোটি টাকা ক্ষতির জায়গায় এ বার ইন্ডিয়ান অয়েল মুনাফা করেছে ১৩,৭৫০ কোটি। তবে এত লাভ হওয়া সত্ত্বেও পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমানো নিয়ে কোনও কথা নেই। কেন্দ্রও চুপ।

অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের নিট মুনাফা ৪১% বেড়ে পৌঁছেছে ৫৭৯৭ কোটি টাকায়। নেস্‌লে ইন্ডিয়ার বেড়ে হয়েছে ৬৯৮ কোটি টাকা। এসিসি-র দ্বিগুণ বেড়ে ৪৬৬ কোটি টাকা। এশিয়ান পেন্টস-এর ১০৩৬ কোটি থেকে বেড়ে ১৫৭৪ কোটি, বজাজ অটোর ১১৭৩ কোটি থেকে বেড়ে ১৬৬৫ কোটি টাকা। ১৭০২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এলঅ্যান্ডটির নিট মুনাফা পৌঁছেছে ২৪৯৩ কোটিতে। ৫০০৬ কোটি টাকা লোকসান কাটিয়ে ৩২০২ কোটি টাকা লাভ করেছে টাটা মোটরস। ৯৩% কমে টাটা স্টিলের লাভ হয়েছে ৫২৪ কোটি। আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে তা ৬২% বেড়ে হয়েছে ১২২৪ কোটি টাকা। ভাল-মন্দ ফলের প্রভাব পড়ছে বাজারে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হবে আরও বেশ কিছু ফল। মোটের উপর এ পর্যন্ত শিল্পে হিসাবের খাতা মন্দ নয়।

(মতামত ব্যক্তিগত)

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy