পঞ্জাব অ্যান্ড মহারাষ্ট্র কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের (পিএমসি) আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে আসার পরে এই প্রথম সেখানকার ক্ষুব্ধ আমানতকারীদের মুখোমুখি হলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তাঁদের আশ্বস্ত করে জানালেন, গ্রাহকদের দুর্ভোগ নিয়ে কথা বলবেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের সঙ্গে। ঘোষণা করলেন, এমন আর্থিক নয়ছয় ঠেকানোর জন্য সমস্ত সমবায় ব্যাঙ্কের পরিচালন ব্যবস্থা উন্নত করে প্রয়োজনে আইন বদলাবে কেন্দ্র। সেই সুপারিশ করার জন্য তৈরি হবে কমিটি। তবে একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, পিএমসি ব্যাঙ্ক কাণ্ডে কেন্দ্রের কিছু করার নেই। যা পদক্ষেপ করার, করবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেবে তারা। 

ফলে ক্ষোভ গেল না পিএমসি ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘আমানতকারীরা আশা করেছিলেন তাঁদের টাকা সুরক্ষিত থাকার ব্যাপারে আশ্বাস দেবেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়েছেন।’’

গ্রাহকদের দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনায় বিপাকে পড়া ১৬ লক্ষ আমানতকারীর টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক। তার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হোক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এ দিন দক্ষিণ মুম্বইয়ে বিজেপি অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা। 

এক ঝলকে

• সেপ্টেম্বরে ধরা পড়ে পিএমসি ব্যাঙ্কে ৪,৫০০ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি।
• অভিযোগ, ব্যাঙ্কটি ৯,০০০ কোটি ঋণের ৭০ শতাংশের বেশি ধার দিয়েছিল প্রায় দেউলিয়া আবাসন সংস্থা এইচডিআইএলকে। যোগসাজশে ৪৪টি ঋণ অ্যাকাউন্টকে ২১,০০০টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টে বদলানো হয়। চাপা দেওয়া হয় ঋণ খেলাপের ঘটনা।
• নয়ছয় সামনে আসতেই গ্রাহকদের টাকা তোলার ঊর্ধ্বসীমা ছ’মাসে ১,০০০ টাকায় বাঁধে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
• গ্রাহকেরা প্রতিবাদ জানালে সেই সীমা বেড়ে হয় ২৫,০০০ টাকা। তাতেও ক্ষোভ মেটেনি।
• গ্রেফতার ব্যাঙ্কটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান ওয়ারিয়াম সিংহ, প্রাক্তন এমডি জয় টমাস, এইচডিআইএল ডিরেক্টর রাকেশ ওয়াধওয়ান ও তাঁর ছেলে।