E-Paper

জ্বালানি সমস্যার সমাধানে পিএনজি নিয়ে তৎপর বহু রাজ্য, তেমন হেলদোল নেই এই রাজ্যে

কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, কেরল, তামিলনাড়ু, রাজস্থানের মতো ভোটমুখী রাজ্য ছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাত, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, বিহারের মতো একগুচ্ছ রাজ্য সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাইপ বসানোর সব ছাড়পত্র দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

অঙ্কুর সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৪

—প্রতীকী চিত্র।

জ্বালানি সঙ্কট কাটাতে কেন্দ্র বার বার পাইপবাহিত রান্নার গ্যাসের (পিএনজি) পরিকাঠামো তৈরিতে জোর দিচ্ছে। এ জন্য রাজ্যগুলিকে দ্রুত সিটি গ্যাসকে ছাড়পত্র দিতে বলছে। জানিয়েছে, কথা শুনলে সেই রাজ্যকে ১০% বেশি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দেওয়া হবে। তবে অভিযোগ, তার পরেও পশ্চিমবঙ্গে এ নিয়ে হেলদোল নেই। গ্যাসের জোগান শিল্প থেকে আমজনতার মাথাব্যথা হলেও, পাইপে তা পাওয়ার সুযোগ খুলছে না। সূত্রের দাবি, অন্তত সোমবার পর্যন্ত পিএনজি দিতে এ রাজ্যে জোরালো কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।

কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, কেরল, তামিলনাড়ু, রাজস্থানের মতো ভোটমুখী রাজ্য ছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাত, উত্তরাখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, বিহারের মতো একগুচ্ছ রাজ্য সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাইপ বসানোর সব ছাড়পত্র দিতে নির্দেশ দিয়েছে। যদিও এ দিন পর্যন্ত বাংলায় তেমন নড়াচড়া ঘটেনি বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। এ রাজ্যে পিএনজি বণ্টনের দায়িত্ব ৫-৬টি সংস্থার। কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় তা দেবে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বৃহত্তর কলকাতা এলাকায় ৯০০ কিলোমিটারের বেশি পাইপলাইন বসিয়ে মাত্র ৬০০-র মতো ঘরে গ্যাস দেওয়া গিয়েছে। সংস্থার সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায়ের দাবি, এর কারণ কম প্রচার এবং সচেতনতার অভাব।

বেঙ্গল গ্যাস সুত্রের দাবি, তাদের এলাকার মধ্যে কলকাতা ও চন্দননগরে কাজ আটকে। দু’বছর ধরে কলকাতায় রাস্তা খোঁড়ার খরচের হার ঠিক করা যায়নি। আর চন্দননগরে নির্বাচন বিধির কথা তুলে কাজ বন্ধ করা হয়েছে। অথচ গৃহস্থদের একাংশের পাশাপাশি পিএনজি-তে আগ্রহী হোটেল, রেস্তরাঁ, ছোট ব্যবসায়ীরাও। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সোমবার রাজ্যের শিল্পসচিব বন্দনা যাদব মুখ্যসচিবের সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করেছেন। তবে সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সূত্র জানাচ্ছে, প্রতিটি রাজ্যে পিএজি-র পরিস্থিতি জানতে দৈনিক সারা দেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। সেখানে সিংহভাগ রাজ্যই জানিয়েছে, তারা সব পুরসভা, পঞ্চায়েত, পূর্ত বিভাগ, নগরোন্নয়ন দফতরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিটি গ্যাস পরিকাঠামোর ছাড়পত্র দিতে বলেছে। আপৎকালীন পরিস্থিতির আওতায় ছেড়ে দিতে বলেছে আটকে থাকাগুলিকে। পিএনজি নিয়ে প্রচারে নামতেও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, এ রাজ্যে তেমন কোনও উদ্যোগ নেই। ফলে জ্বালানি সঙ্কট বাড়লে আখেরে ভুগবেন আমজনতাই।

এ দিকে, আপাতত পাঁচ দিন ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে আমেরিকা বা ইজ়রায়েল আক্রমণ চালাবে না। তেল সংস্থাগুলি মনে করছে, এই খবর দেশে জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারে। তাই গৃহস্থালির সিলিন্ডারে ১৪.২ কেজির বদলে ৭ বা ১০ কেজি গ্যাস দেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Fuel Crisis LPG Crisis

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy