প্রথমে নোটবন্দি। তার পর বছর ঘোরার আগেই জিএসটি চালু— মোদী সরকারের প্রথম দফার এই জোড়া ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়েছিল দেশের ক্ষুত্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই)। শিল্প মহলের একাংশের দাবি, পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ বার কেন্দ্রে ফের স্থায়ী সরকার তৈরি হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা বেড়েছে। শিল্প কর্তাদের আশা, পুরনো সংস্কার পর্বকে পরের ধাপে এগোনোর পাশাপাশি ছোট শিল্পের বাকি সমস্যা সমাধানেও উদ্যোগী হবে কেন্দ্র। 

পাঁচ বছর আগে ‘অচ্ছে দিন’-এর স্বপ্ন ফেরি করে প্রথম বার দিল্লির তখ্‌তে বসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুরুতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, সহজে ব্যবসার পরিবেশ তৈরির মতো সিদ্ধান্ত নিলেও সময় যত গড়িয়েছে, আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়েছে তাঁর সরকার। নোটবন্দি ও তড়িঘড়ি জিএসটি চালুর ফলে নগদ জোগানের অভাবে বহু ছোট ব্যবসা ঝাঁপ বন্ধ করেছে বলে অভিযোগ। জিএসটির নিয়ম বুঝতেও নাভিশ্বাস ওঠে অনেক ক্ষুদ্র ও ছোট সংস্থার। 

এই শিল্পের সংগঠন ফসমির প্রেসিডেন্ট বিশ্বনাথ ভট্টাচার্যের দাবি, ঋণ এখনও সহজলভ্য নয়। কিন্তু মোদী সরকার তো এমএসএমই-র জন্য ৫৯ মিনিটের ঋণ প্রকল্প চালু করেছে? আর এক সংগঠন ফ্যাকসি-র প্রেসিডেন্ট হিতাংশু গুহর দাবি, তাতে তেমন বাড়তি সুবিধা হয়নি। গোড়ায় কিছু টাকা জমা দিয়ে নথিভুক্তির পরে কোন ব্যাঙ্কে যেতে হবে সেটুকুই জানতে পারা যায়। তার পর ব্যাঙ্কের নিয়মকানুনে প্রায় একই সময় লাগে। 

শিল্পের অভিযোগ, যে সব বড় সংস্থা তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনে, আইনে ৪৫ দিনের মধ্যে তার দাম মেটানোর কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা হয় না। শিল্প কর্তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওনা মেটাতে এমএসএমই আইন সংশোধন করে আরও জোরদার করুক কেন্দ্র। 

হিতাংশুবাবু জানাচ্ছেন, সরকারি বরাতের দরপত্রে অংশ নিলে এমএসএমই-কে আগাম বেশ কিছু টাকা (পারফরম্যান্স গ্যারান্টি) জমা দিতে হওয়ায় আর্থিক বোঝা চাপে তাদের উপর। তাঁর দাবি, কোনও এমএসএমই ন্যাশনাল স্মল ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশনের নথিভুক্ত হলে তাদের ছাড় দেওয়া হোক। বিশ্বনাথবাবুর আর্জি, দেশি-বিদেশি লগ্নি প্রস্তাবের কিছু যাতে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্বাঞ্চলে হয় সে দিকে বাড়তি নজর দিক কেন্দ্র।