ঋণ পাওয়ায় সমস্যার কথা অনেক দিন ধরেই বলছে শিল্প। বছরখানেক আগে থেকে ব্যাঙ্ক নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির (এনবিএফসি) নগদের সঙ্কট যা আরও বাড়িয়েছে। শুক্রবার বাজেট প্রস্তাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং এনবিএফসি ক্ষেত্রের হাতে কিছুটা পুঁজি তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
গত সেপ্টেম্বরে সামনে এসেছিল আইএল অ্যান্ড এফএস কাণ্ড। বহু বকেয়া ঋণ মেটাতে ব্যর্থ হয় নগদের সমস্যায় জর্জরিত ওই এনবিএফসি। তার পর থেকে এনবিএফসি ক্ষেত্রেই চলছে নগদের টানাটানি। ফলে টান পড়েছে শিল্প ঋণেও। যার জের সার্বিক ভাবেই পড়েছে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার উপরে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা ছিল, নগদের এই সমস্যার সমাধানে বাজেটে কার্যকরী কিছু পদক্ষেপ করবে কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রী হতাশ করেননি। ব্যাঙ্ক এবং এনবিএফসিগুলির জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন।
সেগুলি কী কী? প্রথমত, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির জন্য এই অর্থবর্ষে ৭০,০০০ কোটি টাকার পুঁজি ঢালবে কেন্দ্র। গত অর্থবর্ষে ঢালা হয়েছিল ১ লক্ষ কোটি। ফলে তাদের পক্ষে ঋণের পরিমাণ বাড়ানোও সম্ভব হবে। ব্যাঙ্কিং বিশেষজ্ঞ এবং ইউনাইটেড ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং এমডি ভাস্কর সেন বলেন, ‘‘বর্তমানে অনেক ব্যাঙ্কেরই ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও বা ঋণের প্রেক্ষিতে মূলধনের অনুপাত কম। যার জন্য তাদের ঋণ বাড়াতে সমস্যা হচ্ছে। বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে ব্যাঙ্কগুলির ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে।’’
দ্বিতীয়ত, এনবিএফসিগুলির পুঁজি বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বাজেটে। নির্মলার প্রস্তাব, তারা যে ঋণ দিয়েছে তার একাংশ কিনতে পারবে ব্যাঙ্কগুলি। ফলে এনবিএফসির নগদের কিছুটা সুরাহা হবে। তবে শর্ত হল, সেই ঋণের ক্রেডিট রেটিং ভাল হতে হবে। অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবর্ষে ব্যাঙ্কগুলি ১ লক্ষ কোটির ঋণ কিনবে এনবিএফসিগুলির কাছ থেকে। এর জন্য যে ঝুঁকি তাদের নিতে হবে, তার একাংশ বহন করবে কেন্দ্র। এ ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের লোকসান হলে সেই অঙ্কের ১০% ব্যাঙ্কগুলিকে মেটানো হবে। এই গ্যারান্টির মেয়াদ ছ’মাস। এনবিএফসি ম্যাগমা ফিনকর্পের চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার কৈলাস বাহেতি বলেন, ‘‘এতে বিশেষ উপকৃত হবে এনবিএফসিগুলি। কারণ, ওই সম্পদ ব্যাঙ্ক নিলে যে টাকা এনবিএফসিগুলির হাতে আসবে, তা দিয়ে ফের ঋণ দিতে পারবে তারা।’’ পাশাপাশি, ‘এএ’ রেটিংয়ের এনবিএফসিগুলি এ বার থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছ থেকে রেপো রেটে ঋণ নিতে পারবে।
এ ছাড়া, অনুৎপাদক সম্পদের জন্য যে অর্থের সংস্থান এনবিএফসিগুলিকে করতে হয়, এখন থেকে তার উপরে আয়কর ছাড় পাবে তারা। বাজারে ডিবেঞ্চার ছাড়ার পরে তার মেয়াদ পূর্তি হলে টাকা মেটাতে যাতে সমস্যা না হয় তার জন্য তাদেরকে ‘ডিবেঞ্চার রিডিমশন রিজার্ভ’ নামে বিশেষ তহবিলে নির্দিষ্ট টাকা সরিয়ে রাখতে হত। অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব, তার প্রয়োজন নেই। এর ফলেও বাড়তি কিছুটা পুঁজি থাকবে এনবিএফসির হাতে।
এনবিএফসি মহলের বক্তব্য, আইএল অ্যান্ড এফএস কাণ্ডের পরে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছিল তারা। এ বারের প্রস্তাবগুলি কিছুটা হলেও কার্যকরী সমাধানের পথ খুলে দেবে। তাতে নগদের সমস্যা অনেকটাই কমবে।