নতুন দেউলিয়া বিধি কার্যকর হওয়ায় এত দিন বিআইএফআরে থাকা রুগ্ণ সংস্থাগুলি চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে নতুন করে জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইব্যুনালে (এন সি এল টি) আবেদন করতে হবে। সরাসরি তা বিআইএফআর থেকে সেখানে স্থানান্তরিত হবে না। বৃহস্পতিবার সিআইআইয়ের সভার ফাঁকে এ কথা জানান দেউলিয়া পর্ষদ বা ‘ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্সি বোর্ড অব ইন্ডিয়া’-র চেয়ারপার্সন এম এস সাহু। এমসিসি চেম্বারের সভাতেও এ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
এত দিন রুগ্ণ সংস্থা পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি বিআইএফআরের এক্তিয়ারেই ছিল। সেই প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্নও উঠত। নতুন দেউলিয়া বিধি কার্যকর হওয়ার পরে বিআইএফআর গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। সে কারণেই বিআইএফআরে থাকা সংস্থার হাল ফেরাতে হলে ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে বলেছেন সাহু।
প্রসঙ্গত, কোনও সংস্থাকে দেউলিয়া ঘোষণায় মান্ধাতার আমলের পদ্ধতি ঢেলে সাজতে গত বছর নতুন বিধি আনে কেন্দ্র। তার জেরে সব ধরনের সংস্থার জন্য একটিই দেউলিয়া আইন বহাল হয়েছে। ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সুযোগ আর খোলা না-থাকলে, ওই নতুন আইনের দৌলতে সংস্থা গোটানো অনেক সহজ হবে। ফলে এক দিকে ব্যাঙ্কগুলির আটকে থাকা ধারের টাকা ফেরত পেতে সুবিধা হবে। অন্য দিকে মসৃণ হবে ভারতে ব্যবসা করার পথও।
এ নিয়ে সাহুর দাবি, বিআইএফআরে থাকা যে-কোনও সংস্থাই দেউলিয়া বিধির আওতায় এনসিএলটি-তে নতুন করে আবেদন করতে পারে। আবেদন জানানোর পরিসরও বেড়েছে। এখন সংস্থার সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে যুক্ত যে-কেউই আবেদন করতে পারেন। আগে সকলে তা পারতেন না। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এখন দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া অযথা বিলম্বিত হবে না। ধার শোধ করতে সমস্যায় পড়া সংস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ১৮০ দিনের মধ্যে। জটিলতা হলে সময়সীমা বাড়তে পারে বড়জোর ৯০ দিন।