এক বছরের মধ্যেই লভ্যাংশের (ডিভিডেন্ড) পুরনো নজির ভেঙে কেন্দ্রকে আরও বেশি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। জানাল, গত অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) জন্য সরকারকে ২.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা দেবে। যা আগের বছরের ২.৬৯ লক্ষ কোটির থেকে ৬.৭% বেশি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গত বছর ফেব্রুয়ারির বাজেটে আয়করের হার ও করের স্তর কমেছিল। তার পরে সেপ্টেম্বরে কমে ৩৭৫টি পণ্যে জিএসটি-র হার। ফলে কোষাগারে টান পড়ছিলই। তার উপরে এ বছর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে অশোধিত তেলের দাম মাত্রা ছাড়ানো ও টাকার দাম পড়ায় অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা বাড়ছে ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি মাথাচাড়া দেওয়া, আর্থিকবৃদ্ধির হার ধাক্কা খাওয়ার। যা যুঝতে শীর্ষ ব্যাঙ্কের ডিভিডেন্ড কাজে লাগবে।
তবে অন্য অংশ বলছেন, কর ছাড়া বাদবাকি যে আয় কেন্দ্র বাজেটে ধরেছিল, তার ৯১ শতাংশই তারা পাচ্ছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে। আবার গত অর্থবর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও ভাল মুনাফা করেছে। ফলে তাদের থেকেও ভাল ডিভিডেন্ড আসবে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যে অনিশ্চয়তা চলছে এবং জ্বালানি ও সারে যে হারে ভর্তুকি কেন্দ্রকে দিতে হচ্ছে, তাতে এই অবস্থা চললে শীর্ষ ব্যাঙ্কের ডিভিডেন্ড কেন্দ্রের কাজে খুব বেশি লাগবে না।
এ দিন শীর্ষ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, গত অর্থবর্ষে ঝুঁকির মূল্যায়ন ও কেন্দ্রকে প্রদত্ত অর্থের আগে নিট আয় হয়েছে ৩.৯৬ লক্ষ কোটি। হিসাবের খাতা ২০.৬১% বেড়েছে। সেই মতো পর্ষদের অনুমোদিত পরিবর্তিত পুঁজি কাঠামো অনুসারেই ডিভিডেন্ড স্থির করা হয়েছে। যা বলছে, কোনও ঘটনার প্রেক্ষিতে ঝুঁকির নিরিখে অর্থের সংস্থান তাদের হিসাবের খাতার ৪.৫%-৭.৫% হলেই চলবে। সেই খাতে ২০২৫-২৬ সালের জন্য ১,০৯,৩৭৯.৬৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। তার আগের বার যা ছিল ৪৪,৮৬১.৭ কোটি টাকা। তার পরেই বাকিটা কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)