শীতের মরসুমে বাজারে নিম্নমানের চা বিক্রি রুখতে প্রায় দু’মাস বাগানে পাতা তোলা ও কারখানায় চা তৈরি বন্ধ রেখেছিল চা পর্ষদ (টি বোর্ড)। মাসখানেক আগে ফের তা চালু হয়েছে। আর এ বার চায়ের মানের উন্নতির লক্ষ্যে সার্বিক ভাবে এই শিল্পকে আরও কিছু নির্দেশ দিল পর্ষদ।

বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্যের মতো চায়েরও গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এফএসএসএআই) নিয়ম রয়েছে। পাতা তোলা থেকে চা তৈরি, সব ক্ষেত্রেই ওই নিয়মের আওতায় বিভিন্ন মাপকাঠি মানতে হয় শিল্পকে। চা গাছেও ব্যবহৃত কীটনাশকের মাত্রা নির্দিষ্ট থাকে। সম্প্রতি সে ক্ষেত্রে আরও কিছু নতুন মাপকাঠি যুক্ত করা হয়েছে। বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান অরুণ কুমার রায় জানান, শুধু রফতানি নয়, তাঁরা দেশের বাজারেও চায়ের মান বাড়ানোয় জোর দিচ্ছেন।

যদিও তাঁদের ও শিল্প মহলের দাবি, এখনও চা নিয়ম মেনেই তৈরি হয়। কিন্তু সময় ও চাহিদার সঙ্গে মান বাড়াতে নতুন মাপকাঠিও যুক্ত হয়। চায়ের ভাল দাম পেতে তা বজায় রাখা জরুরি। সেই সূত্রেই পাতা তোলা থেকে চা তৈরি, প্রতি পদক্ষেপে নিয়ম মানার জন্য নতুন নির্দেশ দিয়েছে পর্ষদ।

নতুন কী?

• বাগান, কারখানা, প্যাকেট সংস্থাগুলির জন্য নির্দেশ।
• মানতে হবে কাঁচা পাতার মানের মাপকাঠি।
• দিনে অন্তত দু’বার পাতা বাগান থেকে কারখানায় পাঠাতে হবে।
• কাঁচা পাতা ভরতে হবে নির্দিষ্ট ব্যাগে।
• কারখানায় থ্যাতলানো, বিবর্ণ, পচা, রোদে ঝলসানো পাতা বাতিল করতে হবে।
• এফএসএসএআইয়ের মাপকাঠি মানতে হবে চা তৈরির সব ধাপে।

পরীক্ষা

• কারখানা ও গুদামে যে কোনও চায়ের নমুনা খতিয়ে দেখবে পর্ষদ।
• মাপকাঠি পূরণে ব্যর্থ হলে চা বাতিল হবে।
• ব্যবস্থা সংস্থার বিরুদ্ধেও।

লক্ষ্য

• ভাল চায়ের জোগান।
• মান বাড়িয়ে দাম বৃদ্ধি।

এফএসএসএআইয়ের নিয়ম ভাঙলে প্রয়োজনে বাগান বা চা প্রস্তুতকারী সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের কথাও নির্দেশে বলেছে বোর্ড। পর্ষদ ও শিল্প মহল সূত্রের অবশ্য খবর, নতুন নির্দেশের আগেই নিয়মভঙ্গের অভিযোগে সম্প্রতি ডুয়ার্সের একটি বাগানের কারখানা তিন মাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে টি বোর্ড।

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

পর্ষদের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (আইটিএ) ও কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)। আইটিএ-র সেক্রেটারি জেনারেল অরিজিৎ রাহার মতে, চায়ের গুণগত মান নিয়ে সচেতনতা বাড়লে শিল্পই উপকৃত হবে। সিস্টার প্রেসিডেন্ট বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এই নতুন নির্দেশ ভাল পদক্ষেপ। তা ঠিকমতো কার্যকর করলে চায়ের মান বাড়বে। দামও বাড়বে।’’