অর্থনীতির জোড়া ধাক্কা সামলে অনেকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই বুধবার বাড়ল শেয়ার বাজার। এ দিন সেনসেক্স এক লাফে বেড়ে গিয়েছে ১৭২ পয়েন্ট। বাজার বন্ধের সময়ে সূচক থিতু হয় ২৪,৮৫৪.১১ অঙ্কে। পাশাপাশি ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফ্টি ৫২.১০ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় ৭৫৬২.৪০ অঙ্কে। এ দিন অতি সমান্য হলেও বেড়েছে টাকার দাম।
মঙ্গলবারই বাজার বন্ধের পরে প্রকাশিত হয় খুচরো মূল্যবৃদ্ধি এবং শিল্পোৎপাদনের সম্প্রতিক পরিসংখ্যান। দু’টি তথ্যই হতাশা সৃষ্টি করার মতো। এক দিকে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার গত ডিসেম্বরে বেড়ে ৫.৬১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। অন্য দিকে নভেম্বর মাসে শিল্পোৎপাদন কমে গত ৪ বছরের মধ্যে সব থেকে নীচে এসে দাঁড়িয়েছে।
শেয়ার বাজার মহলে অধিকাংশেরই আশঙ্কা ছিল মূল্যবৃদ্ধি এবং শিল্পোৎপাদনের সাম্প্রতিক হাল জানার পরে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে শেয়ার বাজারে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার বিপরীত। এ দিন চিন ছাড়া বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে শেয়ার সূচকের মুখ ছিল উপরের দিকে। তারই প্রভাবে ভারতেও বাজার বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই।
তবে বাজার কি এখন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে? এ ব্যাপারে অবশ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন ডিরেক্টর এস কে কৌশিক। তিনি বলেন, ‘‘আমার হিসাব ছিল নিফ্টি ৭৫০০ পয়েন্টে না-নামা পর্যন্ত বাজারে কারেকশন বা সংশোধন চলবে। এ দিন নিফ্টি এক সময়ে ৭,৪২৫.৮০ অঙ্কে চলে এসেছিল। তাই আমার ধারণা, সংশোধন তার বৃত্ত সম্পূর্ণ করেছে। এবার বাজার ক্রমশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে।’’
তবে প্রবীণ বাজার বিশেষজ্ঞ অজিত দে বলেন, ‘‘বাজারের গতি নিয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা কঠিন। বাজার ওঠার মতো কোনও রসদই এখন মজুত নেই। একমাত্র পড়তি বাজারে শেয়ার কেনার প্রবণতা লগ্নিকারীদের মধ্যে দেখা দিতে পারে, যার জেরে সূচকের পারাও কিছুটা ওঠার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু বাজারে স্থিতিশীলতা আসার সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না। বাজেটের আগে বাজারের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।’’
বাজেটের আগে যে বাজারে গতি আসার সম্ভাবনা কম, সে ব্যাপারে অবশ্য এক মত কৌশিকও। তিন বলেন, ‘‘বাজেটে শেয়ার বাজার চাঙ্গা হওয়ার মতো ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নিলে সূচকের লম্বা দৌড় শুরু হবে। তার আগে বাজারে ওঠা বা পড়া কোনওটাই বড় মাপের হবে বলে মনে হয় না।’’
তবে বাজার সূত্রের খবর, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বিভিন্ন শিল্প সংস্থা কেমন আর্থিক ফলাফল করে, তার উপর।