এ যেন নীচে নামার প্রতিযোগিতা চলছে টাকা আর সূচকের। শুক্রবার এক দিকে, অর্থনীতির হৃৎকম্পন বাড়িয়ে গত ২৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে নীচে নেমেছে টাকার দাম। অন্য দিকে, ৩১৮ পয়েন্ট পড়ে সেনসেক্স ১৯ মাসের তলানিতে। উন্নয়ন খাতে খরচ ও চলতি অর্থবর্ষের বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে কোনও আপস না-করেই কেন্দ্র অর্থনীতি আঁটোসাঁটো করার পরিকল্পনা বহাল রাখবে বলে অর্থ মন্ত্রকের বিবৃতিও চাঙ্গা করতে পারেনি বাজারকে।
এ দিন ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম পড়ে যায় ৩০ পয়সা। এক ডলার দাঁড়ায় ৬৭.৫৯ টাকা। আমদানিকারীদের ডলারের চাহিদা বাড়া ও বহু বিদেশি আর্থিক সংস্থার ভারতের বাজারে শেয়ার বেচে লগ্নি তুলে নেওয়াই যার কারণ। তা সত্ত্বেও অবশ্য চলতি খাতে বিদেশি মুদ্রার লেনদেন ঘাটতিকে ১-১.৩ শতাংশে বাঁধা যাবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
সপ্তাহ শেষে বেহাল সেনসেক্সও ৩১৮ পয়েন্ট পড়ে ২৪,৪৫৫.০৪ অঙ্কে নেমেছে। নিফটি ৯৯ পয়েন্ট নেমে থামে ৭,৪৩৭.৮০ অঙ্কে। বাজার বিশেষজ্ঞদের দাবি, এ দিন পতনের মূল কারণ ৩টি। এক, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে হিন্দুস্তান লিভারের মতো বড় সংস্থার হতাশাজনক আর্থিক ফল প্রকাশ। বাজারকে হতবাক করে মুনাফা ২২% কমেছে সংস্থার। দুই, এর জেরে উদ্বেগ ও আশঙ্কায় বিভিন্ন বড় সংস্থার শেয়ার বেচে লগ্নিকারীদের লাভ তোলার হিড়িক। তিন, বিশ্ব বাজারে তেলের দর ১২ বছরে সবচেয়ে নীচে চলে যাওয়া, যা টেনে নামিয়েছে এশিয়া-ইউরোপের বিভিন্ন বাজারকে। ফলে শেয়ার বেচার ঝোঁক বাড়ে ভারতেও।
আর্থিক নিষেধাজ্ঞা উঠলে ইরানও তেল রফতানি শুরু করলে জোগান আরও বাড়বে, এই আশঙ্কায় এ দিন ব্রেন্ট ব্যারেলে ২৯.০৮ ডলারে নামে। ২০০৪-এর পরে যা ন্যূনতম।