বছর শেষের দিনে পরিকাঠামোর ঘর থেকে ভাল খবর পেল না দেশের অর্থনীতি। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান জানাল, নভেম্বরে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি তো দূর অস্ত্, বরং তা সরাসরি কমেছে ১.৩%। ওই শিল্পে এমন সঙ্কোচন এপ্রিল মাসের পরে এই প্রথম।
কয়লা, অশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, শোধিত পেট্রোপণ্য, সার, ইস্পাত, সিমেন্ট এবং বিদ্যুৎ— এই আট শিল্প রয়েছে পরিকাঠামো ক্ষেত্রের মধ্যে। স্বাভাবিক ভাবে শিল্প উৎপাদন সূচকেও এর গুরুত্ব অনেকখানি। প্রায় ৩৮%। ফলে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এই খারাপ ফলের প্রভাব আগামী দিনে দেশের শিল্প সূচকের উপরেও পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। নভেম্বরে দুর্বল পরিকাঠামো, নড়বড়ে রফতানি এবং গাড়ি বিক্রিতে আশা জাগানো ছবির অভাবের প্রতিফলন আগামী শিল্প সূচকে দেখা যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মূল্যায়ন সংস্থা আইসিআরএ (ইকরা)-ও।
আলোচ্য মাসে পরিকাঠামো বৃদ্ধিকে টেনে নামিয়েছে অশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইস্পাত এবং সিমেন্টের উৎপাদন কমে যাওয়া। এর মধ্যে অশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন কমেছে যথাক্রমে ৩.৩% ও ৩.৯%। আগের বছর একই সময়ে যা কমেছিল ০.১ এবং ২.৩%।
কয়লা, শোধিত পেট্রোপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু তা-ও একেবারে ঢিমে তালে। যথাক্রমে ৩.৫ এবং ২.৫% হারে। অথচ আগের বছর এই একই সময়ে তাদের বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ১৪.৬% এবং ৮.১%। গত বছর নভেম্বরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছিল ৯.৯%। অথচ সেখানে এ বার তা বাড়েনি এক চুলও। এই সব কিছুর মধ্যে একমাত্র আশার আলো সার শিল্প। উৎপাদন বেড়েছে ১৩.৫%। যেখানে গত নভেম্বরে তা সঙ্কুচিত হয়েছিল ২.৮%।
২০১৪ সালের নভেম্বরে পরিকাঠামোয় বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৫%। সেখানে এ বার ওই ক্ষেত্রে উৎপাদন সরাসরি কমেছে ১.৩%। গত এপ্রিলে ০.৪% সঙ্কোচনের পরে এই প্রথম। এপ্রিল থেকে নভেম্বর— এই ৮ মাসেও পরিকাঠামোয় বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২%। গত বছর তা ছিল ৬%।
ইকরা-র মতে, একই মাসে অশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোপণ্য এবং ইস্পাতের উৎপাদন কমা হতাশাজনক। তার উপর রফতানির হাল সুবিধার নয়। গ্রামাঞ্চলে চাহিদা বাড়ারও লক্ষণ নেই। ফলে সব মিলিয়ে, নতুন বছরের প্রথমার্ধেও শিল্প বৃদ্ধি শ্লথ হবে বলেই মনে করছে তারা।